স্টাফ রিপোর্টার: অন্তর্বর্তী সরকার সাধারণ পরীক্ষার্থীদের বয়সসীমা ৩০ থেকে বৃদ্ধি করে ৩২ বছর করলেও চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে প্রচলিত অতিরিক্ত দুই বছরের ব্যবধান বজায় রেখে বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ করেনি। ফলে চিকিৎসকদের চাকরিতে যোগদানের বয়সসীমা ৩৪ বছর করার দাবি জানিয়েছে ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে সংগঠনের প্রতিনিধি ডা. আব্বাস ভূঞা বলেন, সম্প্রতি চাকরি বয়সসীমা ৩২ বছর বিষয়ক অধ্যাদেশটি সংসদে অনুমোদনক্রমে পাস হয়ে আইনে রূপান্তরিত হয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে চিকিৎসকদের বয়সসীমা দুই বছর পুনর্বহালের বিষয় বিবেচিত হয়নি।
তিনি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বয়সীমা নির্ধারণে যেসব যৌক্তিকতা তুলে ধরেন:
দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাক্রম: এমবিবিএসসহ চিকিৎসা শিক্ষাক্রম অন্যান্য স্নাতক ডিগ্রির তুলনায় গড়ে ২ থেকে ৩ বছর বেশি দীর্ঘ, যার সঙ্গে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ সংযুক্ত। ফলে চিকিৎসকরা স্বাভাবিকভাবেই চাকরির প্রতিযোগিতায় তুলনামূলকভাবে দেরিতে প্রবেশ করেন।
মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সুরক্ষা: একজন চিকিৎসক তৈরি করতে রাষ্ট্র ও পরিবার উভয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন। বয়সসীমা সংকুচিত থাকলে এই দক্ষ মানবসম্পদের একটি অংশ সরকারি খাতে প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, যা জাতীয় সম্পদের অপচয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
স্বাস্থ্যখাতে জনবল ঘাটতি পূরণ: সরকারি স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ চিকিৎসকের চাহিদা এখনও উল্লেখযোগ্য। বয়সসীমা ২ বছর বৃদ্ধি করা হলে অধিকসংখ্যক যোগ্য চিকিৎসককে সরকারি সেবায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে, যা সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সহায়ক হবে।
তিনি আরও জানান, করোনাকালীন সরকারি চাকরি পরীক্ষার বিবিধ সিস্টেম লস চিকিৎসকদের আরও ভুগিয়েছে। করোনা রোগীর সংস্পর্শ এড়াতে চিকিৎসকদের ফাইনাল পরীক্ষা প্রায় ১ বছরের কাছাকাছি পিছিয়েছে। ইন্টার্নশিপ সমাপ্ত করতেও বিলম্ব হয়েছে। ফলে যথাসময়ে চাকরি পরীক্ষায় বসতে পারেন নি। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাচিবিক বৈঠকে এই বয়স বৃদ্ধি এমনকি ত্রয়োদশ সংসদে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বয়স বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচকতার খবর প্রকাশিত হলেও শেষ মুহূর্তে সংসদে তা আলোচনা হয়নি।
সভা থেকে চাকরিতে কিৎসকদের বয়স সীমা পুনর্বিবেচনায় নেতারা প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডা. হাবিবুর রহমান সোহাগ, ডা. তন্দ্রা সুলতানা প্রমুখ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব