| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দেশের অর্থনীতিকে টেকসই করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: অর্থমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১০, ২০২৬ ইং | ১৪:২৩:০৬:অপরাহ্ন  |  ৭৭০৫৫ বার পঠিত
দেশের অর্থনীতিকে টেকসই করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: অর্থমন্ত্রী

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের অর্থনীতিকে অগ্রসর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

তিনি বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারা অনুযায়ী দেওয়া এক বিস্তৃত বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। শক্তিশালী জনসমর্থন নিয়ে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থার প্রতিদান হিসেবে বাংলাদেশকে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতিতে রূপান্তর করা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পোশাকশিল্পের বিকাশ, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রবেশ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

অর্থনৈতিক সংস্কারের ধারাবাহিকতায় ভ্যাট ব্যবস্থা চালু, শুল্ক কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক খাতে চাপ, বিনিয়োগের ধীরগতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও নিয়ন্ত্রণমুক্তির মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষক, জেলে ও খামারিদের জন্য বিশেষ কার্ড চালু এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসংস্থান বাড়াতে আইসিটি খাতের সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্লু ইকোনমি ও ইকো-ট্যুরিজমে বিনিয়োগের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড চালুর মাধ্যমে রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।

রাজস্ব খাতে স্বচ্ছতা ও অটোমেশন নিশ্চিত করে কর আদায় বাড়ানো এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংস্কার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের মার্চ-জুন সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

এই চাপ মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয়, অফিস সময় কমানো, বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করা এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।

বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও জনগণের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে জনগণ সমর্থন দেবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪