আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে এক বিশাল জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশেষ পরিকল্পনায় মাইন অপসারণকারী জাহাজ এবং অন্যান্য নৌযান মোতায়েনের কথা ভাবা হচ্ছে, যেখানে চমকপ্রদভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন যে, যুদ্ধ-পরবর্তী এই আন্তর্জাতিক রক্ষণাবেক্ষণ মিশনে 'বিবাদমান' পক্ষগুলো, বিশেষ করে আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। ইউরোপীয় নৌবাহিনী এই অভিযানে কোনো মার্কিন কমান্ড ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলে জানা গেছে।এই প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা, যাতে যুদ্ধ থামার পর তারা নির্ভুলভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে পারে। যদিও কর্মকর্তাদের মতে, স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তবে জার্মানির এই জোটে যোগ দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় পুরো পরিকল্পনাটি এক নতুন গতি পেয়েছে।
আগামী শুক্রবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অনলাইন বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছেন, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এই মিশনটি তখনই কার্যকর হবে যখন পরিস্থিতি শান্ত হবে এবং শত্রুতা সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। এছাড়া ওমান ও ইরানের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এই জোট কাজ করবে বলে তিনি জানান। পুরো অভিযানটিকে মূলত তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে আটকে থাকা শত শত জাহাজ মুক্ত করার জন্য লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ইউরোপের হাতে থাকা ১৫০টিরও বেশি বিশেষ জাহাজের মাধ্যমে বিশাল মাইন অপসারণ অভিযান চালানো হবে।
উল্লেখ্য, খোদ আমেরিকার চেয়েও ইউরোপের মাইন অপসারণ ক্ষমতা অনেক বেশি শক্তিশালী। শেষ ধাপে লোহিত সাগরের 'অপারেশন অ্যাসপাইডস'-এর আদলে ফ্রিগেট ও ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এই পরিকল্পনাটি বর্তমানে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে গভীর উত্তেজনারই প্রতিফলন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইউরোপীয় দেশগুলোকে ইরানি বন্দর অবরোধ করার মতো সামরিক পদক্ষেপে যোগ দিতে চাপ দিচ্ছেন, তখন ম্যাক্রোঁ শক্তির জোরে এই প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে 'অবাস্তব' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, সামরিক শক্তির ব্যবহার অনির্দিষ্টকাল সময় নেবে এবং জাহাজগুলোকে উপকূলীয় হুমকির মুখে ফেলবে। ইউরোপীয় নেতারা জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের চেয়ে তা মুক্ত করার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন। বিশেষ করে ইউরোপের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই যুদ্ধের প্রচণ্ড অজনপ্রিয়তা থাকায় ট্রাম্পের চাপকে এক প্রকার অগ্রাহ্য করেই নিজেদের স্বতন্ত্র পথে হাঁটতে চাইছে ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলো।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি