রিপোর্টাস২৪ ডেস্ক: পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, বর্তমানে দেশকে একসঙ্গে তিন ধরনের “যুদ্ধ” মোকাবিলা করতে হচ্ছে—আঞ্চলিক সংঘাত, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সবচেয়ে কঠিন হলো প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৭১ বিধিতে উত্থাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, “একটি হলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, দ্বিতীয়টি হলো বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির যুদ্ধ, আর তৃতীয় ও সবচেয়ে কঠিন হলো প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ।” তিনি বলেন, নদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি এই বাস্তবতা অনুভব করেন।
তিনি আরও বলেন, নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষরা প্রকৃতির এই লড়াইয়ের ভয়াবহতা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। ডেপুটি স্পিকারও এ সময় নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
আলোচনায় সিলেট অঞ্চলের নদীভাঙন পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুমোদন পেয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট এলাকায় মোট প্রায় ৫.৭৭৫ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন থেকে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে এবং যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা চলমান রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম