আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে দুই ভিন্ন পথের চিত্র স্পষ্ট—একদিকে কূটনীতি, অন্যদিকে সামরিক পদক্ষেপ। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কূটনৈতিক উদ্যোগে ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি করেন, অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তি বাতিল করে সামরিক চাপের পথ বেছে নেন।
ওবামার সময়ে হওয়া জেসিপিওএ-তে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শন মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয় এবং জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া হয়। তবে চুক্তিটির বিরোধিতা করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
২০১৮ সালে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন। এরপর ইরান ধীরে ধীরে পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়ায়। বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানলেও দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি বলে বিশ্লেষকদের মত।
এদিকে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির ভিত্তিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ইসলামাবাদ-এ। তবে যুদ্ধের সমাপ্তি কেমন হবে তা এখনও অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই ফিরতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন নতুন চুক্তিতে আরও কঠোর শর্ত আরোপ করতে চায়। তাদের দাবি, ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে এবং বিদ্যমান মজুত আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে দিতে হবে। তবে ইরান বলছে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কোনো চুক্তি হলে তা আগের জেসিপিওএর মতো না হলেও আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ও সীমিত পারমাণবিক কার্যক্রমের বিষয়গুলো এতে থাকতে পারে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
বর্তমান বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং সেখান থেকে সম্ভাব্য টোল আদায় ইরানের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ হয়ে উঠতে পারে, যা যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে দেশটির প্রভাব আরও বাড়াতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি