| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ছয় দফা দাবিতে যশোরে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি কৃষক খেতমজুর সমিতির

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ২১, ২০২৬ ইং | ১১:৩৯:০১:পূর্বাহ্ন  |  ৩৬৭৪ বার পঠিত
ছয় দফা দাবিতে যশোরে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি কৃষক খেতমজুর সমিতির

বেনাপোল প্রতিনিধি: আমেরিকার সঙ্গে গোপন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলসহ ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাতীয় কৃষক খেতমজুর সমিতি যশোর জেলা শাখা। সোমবার দুপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।

স্মারকলিপির ছয় দফা দাবিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে করা কৃষিবিধ্বংসী, দেশবিরোধী গোপন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে হবে। চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচার করতে হবে। কৃষক ধান উৎপাদন করে—চাল নয়, তাই প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে হবে। কৃষক যত ধান বিক্রি করতে চায়, তত ধানই সরকারকে ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র খুলে ক্রয় করতে হবে। উৎপাদন খরচের দেড় গুণ ধরে সরকারকে ধানের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। কৃষি কার্ড নয়—কৃষি উপকরণের দামে সরাসরি উৎপাদনকারী কৃষককে ভর্তুকি দিতে হবে। খেতমজুরসহ সকলের জন্য সারা বছর রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

সোমবার দুপুরে জাতীয় কৃষক খেতমজুর সমিতি যশোর জেলা শাখার নেতাকর্মীরা যশোর কালেক্টরেট চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিজানুর রহমান। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ও যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম-উর-রহমান, যশোর জেলার সদস্য অনিল বিশ্বাস, শেখর বিশ্বাস, পলাশ বিশ্বাস, সাহাবুদ্দিন বাটুল, আসাদুজ্জামান পিন্টু প্রমুখ। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংসদ নির্বাচনের তিন দিন পূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি জাতীয় স্বার্থ বিপন্ন করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি কেবল পণ্য বিনিময় নয়; বরং বাংলাদেশের কৃষিখাতের নিয়ন্ত্রণ দেশীয় কৃষকের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মার্কিন কর্পোরেট ল্যাবে বন্দি করার একটি দীর্ঘমেয়াদি নীলনকশা। আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রতিবছর অন্তত ৭ লাখ মেট্রিক টন মার্কিন গম আমদানির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বছরে প্রায় ১.২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সয়াবিন এবং সয়াজাত পণ্য অথবা ২.৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন পণ্য আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া তুলার বাজারসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ বিশাল পরিমাণ আমদানির ফলে দেশীয় গম ও তেলবীজ চাষিরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে, যা তাদের স্থায়ীভাবে বাজার থেকে উচ্ছেদের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এছাড়া সরকার ধানের যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, তা কৃষকের উৎপাদন খরচই পূরণ হবে না। এভাবে প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কৃষি উৎপাদনে কৃষক উৎসাহ হারাচ্ছে। কৃষি উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা বিনষ্ট হয়ে আমদানিনির্ভর হতে হচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সরকারি ধান ক্রয়কেন্দ্রের দূরত্ব ও নানা দুর্নীতি, হয়রানি ও অনিয়মের কারণে কৃষক সরাসরি সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারে না। সরকারের ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২.১৮ গুণ বেশি। অর্থাৎ ধান এক টন কিনলে চাল ক্রয় করা হয় ২.১৮ টন। চাল উৎপাদন করে মিল মালিকেরা। ফলে কৃষকরা সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি হয়ে পড়ে এবং প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। চাল নয়—ধান ক্রয়ের নীতি চালু করা জরুরি। প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র করে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের পদ্ধতি চালু করতে হবে।

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনসহ জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। খেতমজুরদের সারা বছরের কাজ নেই। গ্রাম-শহরের গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি।

সবজি-ফল উৎপাদন করে যশোর সারাদেশের উল্লেখযোগ্য চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু কোনো কোল্ড স্টোরেজ নেই। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে মূল্য থেকে বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবজি চাষিরা।

৪০ বছর ধরে চলে আসা ভবদহ জলাবদ্ধতার সমাধানে চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। আমডাঙ্গা খাল সংস্কারে টেন্ডার হলেও ২ বছর অতিক্রান্ত হলেও জমি অধিগ্রহণের কাজ করা হয়নি। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ৮১ কিলোমিটার নদী খনন হলেও প্রস্তাবিত বিলে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। নদী কাটা এবং টিআরএম একসঙ্গে কার্যকর না হলে এই বর্ষা মৌসুমে কৃষকের ফসল ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪