কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম জেলায় আবারও হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নতুন করে আরও তিনজন শিশু ভর্তি হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জন শিশু ও ২ জন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গত ১০ মে বিশেষ এ টিকাদান কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ২০ দিনব্যাপী এ অভিযানে জেলার প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার শিশুকে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে।
তবে এখনও কোনো শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে থাকলে তাদের জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীকে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কুড়িগ্রামের চিকিৎসক ডা. অজয় কুমার রায় বলেন, “শুধু ৯ মাস বয়সে এক ডোজ টিকা দিলেই হবে না, ১৫ মাস বয়সে বুস্টার ডোজ নিশ্চিত করতে হবে। এতে হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।”
এদিকে সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল-আমিন মাসুদ জানান, দিন যত যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে আইসোলেশন বিভাগ খোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, “কোনো শিশুর জ্বর, শরীরে ব্যথা, পাতলা পায়খানা বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রয়েছে এবং আক্রান্তদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।”
সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাড়ি ফিরবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য বিভাগ আশঙ্কা করছে, এ সময় হামের সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। সে কারণে জেলার সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন