রিপোর্টার্স ২৪ ডেস্ক : ছুটির দিনে দেশের চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২০ জুন) ময়মনসিংহের ফুলপুর ও তারাকান্দায় ১০ জন, নাটোরে জাবি শিক্ষার্থীসহ চারজন ও লালমনিরহাটের পাটগ্রামে দু’জন ও মানিকগঞ্জের সিংগাইরে একজন নিহত হয়েছেন।
ময়মনসিংহ অফিসের মো: সাজ্জাতুল ইসলাম জানান, জেলার ফুলপুর ও তারাকান্দায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২০ জুন) বিকেলে ও রাতে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কে দুর্ঘটনা দু’টি ঘটে।
জানা যায়, ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কে ফুলপুর উপজেলার কুরিয়ার সেতু-সংলগ্ন স্থানে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাস ও মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন।
নিহত একজন হলেন ধোবাউড়া থানার বরাটিয়া গ্রামের মরহুম আব্দুল বারেকের স্ত্রী জবেদা খাতুন (৮৫) ও অপরজন ফুলপুর থানার মদিপুর সুতারপাড়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে রাকিবুল হাসান। নিহত অপর পাঁচজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফুলপুর থেকে একটি মাহিন্দ্রা হালুয়াঘাটের দিকে যাচ্ছিল। পথে পৌরসভার কাজিয়াকান্দি এলাকায় পৌঁছলে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো একজন মারা যান। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
ফুলপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাব অফিসার মো: লুতফুর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাই। নিহতদের লাশ উদ্ধার করার সময় একদল উত্তেজিত জনতা আমাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে। পরে তারা দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।’
ফুলপুর থানার ওসি মো: আবদুল হাদী দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুর্ঘটনাস্থলে ছয়জন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে একজন মারা গেছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপর ঘটনায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তারাকান্দা উপজেলায় যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
তারাকান্দা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। বিকেল পৌনে ৬টার দিকে রামচন্দ্রপুর এলাকায় হিমালয় ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সিএনজির দুইজন নিহত হন। তবে তাদেরও তাৎক্ষণিক পরিচয় জানা যায়নি এবং ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর আহত অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ আলম (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: টিপু সুলতান জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি পাশের হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। তবে গাড়িতে কোনো রোগী ছিল না। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুইটি গাড়িই জব্দ করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থাও প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে, তারাকান্দা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। বিকেল পৌনে ৬টার দিকে রামচন্দ্রপুর এলাকায় হিমালয় ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সিএনজির দুইজন নিহত হন। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি এবং ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হানপাতালে নেওয়ার পর আহত অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ আলম (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: টিপু সুলতান জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি পাশের হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। গাড়িতে কোনো রোগী ছিল না। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দু’টি গাড়িই জব্দ করা হয়েছে। আইনিব্যবস্থাও প্রক্রিয়াধীন।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, জেলায় নিহত চারজনের মধ্যে একজন দুর্ঘটনা কবলিত সিএনজিচালক নাটোর সদর উপজেলার হারিগাছা গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে মো: বাবু (৪০)। অপর তিনজন হলেন ঢাকার মিরপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো: সাগর (৩৫) ও তার আত্মীয় রাজধানীর মিরপুর এলাকার বাসিন্দা মো: শহিদুল ইসলাম (৪৫) এবং অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি (৪০)।
হাইওয়ে পুলিশের ঝলমলিয়া ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: আবুল কালাম জানান, শুক্রবার বিকেলে সিএনজিচালক রাজশাহী থেকে যাত্রী নিয়ে নাটোরের দিকে আসছিলেন। একই সময়ে সিরাজগঞ্জ থেকে রাব্বি পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাস রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিল। পথে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে নাটোর শহরের বনবেলঘড়িয়া বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে সিএনজি-বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় সিএনজিতে থাকা ঢাকা মিরপুর এলাকার বাসিন্দা সিএনজি যাত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো: সাগর ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং অপর তিনজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে নাটোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে সিএনজিচালক বাবুর মৃত্যু হয়। আহত দু’জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তাদের মৃত্যু হয়।
তিনি আরো জানান, ঘটনার পরপরই বাসচালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেলের দু’ আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরের দিকে লালমনিরহাট-বুড়িমারী স্থলবন্দর মহাসড়কের উপজেলার বাউরা নবীনগর সরকারপাড়া মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পাটগ্রাম পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জারকোর্ট এলাকার আলিউল ইসলামের ছেলে মেরাজ হোসেন (২২) ও একই এলাকার একরামুল হকের ছেলে অনিক ইসলাম (২৩)। এর মধ্যে অনিক শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এবং মিরাজ হোসেন ঘটনাস্থলে নিহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে মেরাজ হোসেন ও তার বন্ধু অনিক ইসলাম পাটগ্রাম পৌরসভার মির্জারকোর্ট গ্রামের বাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেলযোগে পার্শ্ববর্তী হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের বড়মসজিদে (ভাঙ্গা মসজিদ) জুমার নামাজ পড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। অনিক ইসলাম মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। তার পেছনে বসা ছিলেন মেরাজ হোসেন।
মোটরসাইকেলটি লালমনিরহাট-বুড়িমারী স্থলবন্দর মহাসড়কের উপজেলার বাউরা নবীনগর সরকারপাড়া মোড়ে পৌঁছলে নীলফামারী থেকে ছেড়ে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলআরোহী মেরাজ হোসেন নিহত হন। গুরুতর আহত অনিক ইসলামকে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা হাসপাতালে ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাতীবান্ধা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থলে একজন নিহত হয়েছেন। অপর একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে ট্রাকের সাথে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকচালক বিল্লাল হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ট্রাকের হেলপারসহ বাসের চার যাত্রী।
শুক্রবার (২০ জুন) সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ট্রাকচালক বিল্লাল হোসেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
আর আহতরা হলেন হেলপার রতন (৩০), বাসের যাত্রী প্রকাশ মন্ডল (২৭), মিনার (৫৫), মাসুদ (২৫) ও আনোয়ার (২৬)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী শুকতারা পরিবহন সার্ভিসের একটি যাত্রীবাহী বাস ওই সড়কের সিংগাইর পৌর এলাকার কাশিমনগর বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা মানিকগঞ্জগামী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গাড়ি দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালক নিহত হন এবং এ ঘটনায় আহতদের তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জে ও এম তৌফিক আজম বলেন, ট্রাকের সাথে বাসের সংঘর্ষে নিহতের লাশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনিব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রিপোর্টার্স ২৪/এমবি