স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার শিকার সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের বড় বোনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে পল্লবীতে রামিসার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি নিহত শিশুর বাবার কাঁধে হাত রেখে ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
রামিসার বাবা-মাকে উদ্দেশ করে তারেক রহমান বলেন, এই অন্যায়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার আমরা আগে করতে চাই। এক সন্তানকে আল্লাহপাক নিয়ে গেছেন, আরেক সন্তান আপনাদের কাছে আছে। ওর দিকে তাকিয়ে আপনাদের শক্ত থাকতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী রামিসার মা-বাবা ও বড় বোনকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে রামিসার বড় বোনের পড়াশোনার সম্পূর্ণ ব্যয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া পরিবারের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থাও দ্রুত করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমান উপস্থিত ছিলেন।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুর-১১ নম্বরের বি ব্লকের একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং মরদেহ গুমের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। পরে ফ্ল্যাটের ভেতর থেকেই দেহের অংশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান জানান, জবানবন্দিতে সোহেল হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হলে আসামিরা তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে ঢুকে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান।