রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ফের ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।
সোমবার (২৫ মে) সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণ বা তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় এনে নতুন এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশে নতুন দর কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।
এর আগে গত ২৩ মে বাজুস ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম একই পরিমাণ অর্থাৎ ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নেমে এসেছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকায়। তবে মাত্র দুই দিনের মাথায় সেই কমতি দাম আবারও বাড়ানো হলো একই অঙ্কে। ফলে বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৬৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩২ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দামে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
শুধু স্বর্ণই নয়, ঈদের আগে দেশের বাজারে রুপার দামও একযোগে বাড়িয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম মোট ৪০ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১৮ বার কমানো হয়েছে। অথচ ২০২৫ সালে রুপার দাম পরিবর্তন হয়েছিল মাত্র ১৩ বার।
ঈদকে কেন্দ্র করে স্বর্ণ ও রুপার এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতা, মধ্যবিত্ত পরিবার এবং জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম ও ঈদের কেনাকাটার সময় এমন মূল্যবৃদ্ধি বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম