| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রামিসার মায়ের ডাক শুনে গ্রিল কেটে পালায় সোহেল

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৪, ২০২৬ ইং | ১৯:০৬:৩৬:অপরাহ্ন  |  ২০৪ বার পঠিত
রামিসার মায়ের ডাক শুনে গ্রিল কেটে পালায় সোহেল

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার পর ভিকটিমের মায়ের ডাক শুনে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় প্রধান আসামি সোহেল রানা। এ ঘটনার বর্ণনা উঠে আসে প্রধান আসামি সোহেল রানার জবানবন্দিতে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির দেওয়া জবানবন্দি আদালতে পড়ে শুনান।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, আমার নাম সোহেল রানা। ওই বাসার তৃতীয় দলায় ভাড়া থাকি। এ বাসার তিন তলায় তিন ফ্ল্যাটে তিনজন থাকে। সকালে তারা কাজে বাসা থেকে বের হয়। আমি নিয়মিত নেশা করি।

সোহেল আরও বলেন, পাশের বাসার ৮ বছরের শিশু রামিসা বাসার বাইরে এলে তাকে ডাক দিই। সে এলে তাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। এরপর সে চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরি। মুখে ওড়না বেঁধে আমি তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে রুম থেকে ছুরি আনি। লাশ গুম করতে চাই। এরপর তার মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করি। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি করে। আমি ভয় পাই। পরে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।

এদিকে মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ের জন্য আগামী ৭ জুন দিন ঠিক করেন। 

এদিন রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চান। অপরদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহ আসামির লঘু দণ্ড চান।

এদিন আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ফের তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওইদিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এর মাধ্যমে একদিনেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। 

এরপর গত ৩ জুন প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। হত্যার পর রুমের জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায়  সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।  

রামিসার বাবা তার পরিবারের লোকজন নিয়া পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। ভিকটিম রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪