বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত ফাতেমার মা ফজিলা বেগমকে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ফিরে পেয়েছে তার পরিবার। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর সম্প্রতি তার পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যান।
জানা গেছে, ফাতেমার মৃত্যুর খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে ফজিলার ভাই, মা, সন্তানসহ ছয়জন স্বজন খানজাহান আলী মাজারে ছুটে আসেন। মাজার কর্তৃপক্ষ তাদের বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠান। সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ফজিলাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফজিলা বেগমের দুই ছেলে ও তিন মেয়েসহ মোট পাঁচ সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে নিহত ফাতেমা ছিল সবার ছোট।
ফজিলার ছোট ভাই মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, “প্রায় তিন বছর আগে আমার বোন নিখোঁজ হয়েছিল। আজ তাকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত। তবে আমার ভাগ্নির মৃত্যুর কথা মনে হলে খুব কষ্ট হয়।”
ফজিলার মা হাজরা খাতুন বলেন, “আমার মেয়েকে ফিরে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আমার নাতনিরও সন্ধান পেলে আরও ভালো লাগত।”
মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা বেগম স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে না পারলেও বারবার একটি কথাই বলার চেষ্টা করেন—“আমি আমার মেয়েকে ছেড়ে যাব না।”
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, “ফজিলার পরিবারের সদস্যরা সকালে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে সমাজসেবা কর্মকর্তা, বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন