আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সোমবার প্রকাশ্যে উঠে এসেছে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকে একাধিক শরিক দল কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও সমন্বয় নিয়ে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
ইন্ডিয়া টুডে টিভির সূত্র অনুযায়ী, জোটের কয়েকটি দল অভিযোগ করেছে যে নির্বাচনী প্রচারণার সময় কংগ্রেস নেতাদের পক্ষ থেকে সহযোগী দলগুলোর বিরুদ্ধে কটূক্তি করা হয়েছে এবং জোটের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়েরও অভাব রয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রথমে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরে বিশেষ করে বামপন্থী দলগুলোর নেতারাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কয়েকজন নেতা বছরে মাত্র একবার বৈঠক আয়োজনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং আরও ঘন ঘন পরামর্শ বৈঠকের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, জাতীয় পর্যায়ে জোট ঐক্যবদ্ধ থাকলেও নির্বাচনী প্রচারের সময় বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং রাজ্য ইউনিটের মতামতকেও গুরুত্ব দিতে হয়।
প্রতি দুই মাসে বৈঠকের সিদ্ধান্ত
এর আগে দিনভর রাজধানী নয়াদিল্লিতে ২৫টি বিরোধী দলের নেতারা বৈঠকে মিলিত হন। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিন্ন কৌশল নির্ধারণই ছিল বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
বৈঠকে অংশ নেন রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা। ভার্চুয়ালি যোগ দেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা হেমন্ত সোরেন।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, সব নেতা স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, ইন্ডিয়া জোট প্রতি দুই মাস অন্তর বৈঠক করবে এবং আগামী বৈঠক আগস্ট মাসে হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হবে। যদিও সুনির্দিষ্ট তারিখ পরে নির্ধারণ করা হবে।
খাড়গে জানান, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালেও জোটের নেতারা সমন্বয়ের জন্য নিয়মিত বৈঠক করবেন।
নির্বাচন কমিশন ও শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত
বৈঠকে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিবিএসই পরীক্ষা বিতর্কের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি জানানো হয়।
এছাড়া বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, কৃষকদের সমস্যা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উদ্বেগসহ দেশের ‘সংকটপূর্ণ’ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বানেরও দাবি জানানো হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে
রিপোর্টার্স২৪/এসসি