| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় নিহত ৯, আগুনে পুড়ছে ঐতিহাসিক মঠ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৫, ২০২৬ ইং | ১৫:০৭:১৩:অপরাহ্ন  |  ১৭৯২ বার পঠিত
রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় নিহত ৯, আগুনে পুড়ছে ঐতিহাসিক মঠ
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি রয়টার্স

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:  ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় রুশ বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রতীক কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা মঠে আগুন ধরে যায় বলে সোমবার জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

নতুন এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন। চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনের আগে এ আলোচনা হয়।

১০৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা মঠে সরাসরি হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন রাজধানীর সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো।

জেলেনস্কি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরায় রুশ হামলার ফলে ১১শ শতাব্দীর ইতিহাসবাহী ডরমিশন ক্যাথেড্রালে আগুন লেগেছে। খ্রিস্টীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর মধ্যে এটি একটি।”

মঠজুড়ে যখন আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন বাসিন্দারা ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। জুনের শুরুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২০ জনের বেশি নিহত ও শতাধিক আহত হওয়ার পর এটিই ছিল ইউক্রেনে সবচেয়ে ভয়াবহ রুশ হামলা।

বিদ্যুৎহীন ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬১১টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৮২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জাতীয় টেলিভিশনে বলেন, “ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখনো আমাদের জন্য বড় সমস্যা। নিক্ষেপ করা ৩৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৫টি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে, যদিও এটিও একটি ভালো ফল।”

কিয়েভে চারজন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিমুর তকাচেঙ্কো।

ইউক্রেনের অর্থোডক্স চার্চের প্রধান মেট্রোপলিটন এপিফানিই বলেন, “বিশ্বকে আর কী দেখতে হবে যাতে তারা বুঝতে পারে যে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ সন্ত্রাস এবং শান্তির মৌলিক নীতির ওপর আঘাত বন্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি?”

পোল্যান্ডের যুদ্ধবিমান মোতায়েন

রুশ হামলার কারণে সম্ভাব্য আকাশসীমা লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশ পোল্যান্ড সাময়িকভাবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। পরে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানায়, কোনো আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি এবং সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঠে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, ইউনেস্কো এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার আওতায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ শুরু করবে কিয়েভ। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গুস সাখনাও।

ইউক্রেন ও রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা

সোমবার ভোরে ইউক্রেনের অধিকাংশ এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। একই সময়ে রাশিয়ার আকাশে ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চলছিল। উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে দ্বিতীয় দফা রুশ হামলায় চারজন উদ্ধারকর্মী এবং একজন স্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহর ক্লিমেঙ্কো জানিয়েছেন, এতে আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।অন্যদিকে সুমি অঞ্চলে এক শিশুসহ তিনজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বাড়িয়েছে, যাতে মস্কোর আয় কমে এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়।

সোমবার মস্কোর দক্ষিণে শিল্পাঞ্চলখ্যাত তুলা শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং এক বছর বয়সী এক শিশুসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের গভর্নর।

এ ছাড়া ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখলে নেওয়া কৃষ্ণসাগরীয় ক্রিমিয়া উপদ্বীপে সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ইউক্রেন রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগকারী দুটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার আগে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অংশগ্রহণে যুদ্ধবিরতি নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্স এ প্রস্তাবকে সমর্থন করলেও পুতিন তা প্রত্যাখ্যান করেন।

রোববার ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্প রুশ নেতাকে বলেছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ও মধ্যস্থতাকারীরা বেশি মনোযোগ দেওয়ায় ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা রোববার জানিয়েছেন, নিজেদের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানে একটি শান্তি কাঠামোতে তারা সম্মত হয়েছেন এবং আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।    রয়টার্স 

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪