| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ওপর হতাশ নেতানিয়াহু

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৬, ২০২৬ ইং | ১৩:১৯:১৫:অপরাহ্ন  |  ৯২৯ বার পঠিত
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ওপর হতাশ নেতানিয়াহু

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে অসন্তোষ ও হতাশা বাড়ছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে। সামরিক কৌশল, আঞ্চলিক অভিযান এবং কূটনৈতিক সমঝোতা সব ক্ষেত্রেই দুই নেতার অবস্থান ক্রমেই ভিন্ন পথে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর আগে নেতানিয়াহু ধারণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এই কৌশল ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানেও তাকে শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা করেছিলেন।

কিন্তু বাস্তবতা সেই পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ধীরে ধীরে এই সংঘাত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি।

ইরান পরিস্থিতির পাশাপাশি লেবানন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লা ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন।

নেতানিয়াহু প্রশাসন মনে করেছিল, সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর দুর্বলতা তৈরি করা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে হিজবুল্লা বা ইরান—কারোরই কাঙ্ক্ষিত পতন বা দুর্বলতা দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১৯ জুন একটি নতুন সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে বলে মনে করছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার।

ইসরায়েলি জোট সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, প্রস্তাবিত ওই চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সামরিক নেতৃত্বের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

সম্প্রতি জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, আর আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। অনেক সময় আমাদের মতের মিল হয়, আবার অনেক সময় হয় না। তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার।”

বিশ্লেষকদের মতে, এটি দুই দেশের মধ্যে স্বার্থভিত্তিক নীতিগত পার্থক্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত। আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশ্লেষক ড্যান শাপিরো বলেন, নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ এড়িয়ে চললেও, ইসরায়েল নিজের নিরাপত্তা স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থান বজায় রাখবে।

এদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতানিয়াহু চাপের মুখে রয়েছেন। আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও লেবানন নীতি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।


সূত্র: রয়টার্স


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪