| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ব্রাজিলে বাড়ছে ইসলামের অনুসারী, মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২১, ২০২৬ ইং | ১৮:৩২:৪৬:অপরাহ্ন  |  ৩৮২ বার পঠিত
ব্রাজিলে বাড়ছে ইসলামের অনুসারী, মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ফুটবল, সাম্বা, আমাজনের বিস্তীর্ণ অরণ্য ও মনোরম সমুদ্রসৈকতের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রাজিলে নীরবে বাড়ছে ইসলাম ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম এই দেশটি সাধারণত এসব বৈশিষ্ট্য দিয়েই পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ধর্মীয় চিত্রেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই লাতিন আমেরিকান দেশে মুসলিম জনগোষ্ঠী এখন শুধু অভিবাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের মধ্যেও ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা আইবিজিই এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৬৭ হাজার থেকে ১৫ লাখের মধ্যে। ইসলামি সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১৫ লাখ মুসলিম বসবাস করছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ।

গবেষকদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক সময় সরকারি আদমশুমারিতে ধর্মান্তরের তথ্য সময়মতো হালনাগাদ হয় না।

বর্তমানে ব্রাজিলে প্রায় ১৫১টি সক্রিয় মসজিদ এবং শতাধিক নামাজকেন্দ্র ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সাও পাওলো, পারানা, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া, কুরিতিবা ও ফোজ দো ইগুয়াসু অঞ্চলে মুসলিম জনসংখ্যার ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলে ইসলামের বিস্তারের প্রধান দুটি কারণ হলো অভিবাসন এবং স্থানীয় জনগণের ইসলাম গ্রহণ। গত শতকে সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন থেকে আগত আরব মুসলিমরা দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকেও মুসলিম অভিবাসীরা সেখানে যান।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কারণে স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ছে। একটি ইসলামিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ১০ হাজারের বেশি স্থানীয় ব্রাজিলীয় ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সাও পাওলোর মেসকিতা ব্রাজিল, যা ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম মসজিদ হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া ফোজ দো ইগুয়াসুর ওমর ইবনে খাত্তাব মসজিদ এবং কুরিতিবা ও ব্রাসিলিয়ার ইসলামিক কেন্দ্রগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রাজিলের মুসলিমরা মূলত নগরাঞ্চলে বসবাস করেন এবং সাও পাওলো, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া ও ফোজ দো ইগুয়াসু শহরগুলো তাদের প্রধান কেন্দ্র।

বিশ্বের অন্যতম বড় হালাল মাংস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও ব্রাজিলের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। দেশটির হালাল খাদ্য শিল্প শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিলে ইসলাম এখন কেবল অভিবাসীদের ধর্ম নয়, বরং স্থানীয় সমাজেও ধীরে ধীরে একটি দৃশ্যমান ধর্মীয় পরিচয়ে পরিণত হচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪