| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শ্রমজীবীদের জন্য স্কুল থাকলেও পড়ার সুযোগ নেই: বাউফলে বন্ধ রাতে শিক্ষা কার্যক্রম

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৫, ২০২৬ ইং | ১৫:২৪:১০:অপরাহ্ন  |  ১৭৩৯ বার পঠিত
শ্রমজীবীদের জন্য স্কুল থাকলেও পড়ার সুযোগ নেই: বাউফলে বন্ধ রাতে শিক্ষা কার্যক্রম

বাউফল প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে শ্রমজীবী মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি রাতের স্কুল এখন কেবল নামেই টিকে আছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ক্লাস চলাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলছে। নেই শিক্ষক, নেই শিক্ষার্থী।

গত শনিবার রাত ৮টার দিকে কপূরকাঠি এ কে নৈশ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের কথা থাকলেও শ্রেণিকক্ষগুলো সম্পূর্ণ ফাঁকা। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিল নেই। বৈদ্যুতিক ফ্যানও খুলে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতাও দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর মাঝে মাঝে কয়েকজন এসে প্রতিষ্ঠানটি খোলেন, তবে সেখানে নিয়মিত পাঠদান হতে দেখেননি তারা। তাদের দাবি, দিনে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের অবসর সময়ে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।

জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে সাবেক পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল হক খান শ্রমজীবী মানুষের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এমপিওভুক্ত এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। নিয়ম অনুযায়ী বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এখানে ক্লাস চলার কথা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে চারজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহকারী কর্মরত রয়েছেন।

প্রতিবেদকের উপস্থিতির খবর পেয়ে পরে ঘটনাস্থলে আসেন সহকারী শিক্ষক এস এম আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারের কাছে ছুটির আবেদন দিয়ে ঢাকায় গেছেন। আমরা রাত ৮টা ১৫ মিনিটে স্কুল থেকে বের হয়েছি। দপ্তরি স্কুলের চাবি নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। বিদ্যালয়ে প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আজ ৩৫ থেকে ৪০ জন উপস্থিত ছিল। চাবি না থাকায় হাজিরা খাতা দেখানো সম্ভব হয়নি।”

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, “বিল-সংক্রান্ত কাজ ও চিকিৎসার জন্য আমি ঢাকায় এসেছি। ছুটির আবেদন ফাইলে রেখে এসেছি। আমার চাকরির মেয়াদও প্রায় শেষ। আপনারা কষ্ট করে গিয়েছেন, আপনাদের যেটা প্রয়োজন সেটা পেয়ে যাবেন। আপনারা যেভাবে বলবেন, সেভাবেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করব।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে চেয়ার-টেবিল সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি, সব ভেঙে গেছে। এছাড়া লাইট, ফ্যান ও বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে গেছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নামে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো জরাজীর্ণ এবং বাস্তবে শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো কার্যকর চিত্র নেই। শিক্ষকরা জানান, দপ্তরি মারা যাওয়ার পর পার্ট-টাইম ভিত্তিতে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টার্স /এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪