| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ক্ষুধা লাগলে মেজাজ গরম হয়ে যাওয়া কি কোনো রোগের ইঙ্গিত?

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৮, ২০২৬ ইং | ২১:৩১:০৮:অপরাহ্ন  |  ১৪৫৬ বার পঠিত
ক্ষুধা লাগলে মেজাজ গরম হয়ে যাওয়া কি কোনো রোগের ইঙ্গিত?

রিপোর্টার্স ডেস্ক: খিদে পেলে মেজাজ বিগড়ে যাওয়া বা ‘হ্যাংরি’ (Hangry) হওয়ার পেছনে মূল কারণ কী হতে পারে? আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়াই এর জন্য দায়ী।

তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু শর্করার কমতি নয়, বরং নিজের শরীরের অভ্যন্তরীণ সংকেত বোঝার ক্ষমতার অভাবই মানুষকে বেশি খিটখিটে করে তোলে।

জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক নিলস ক্রোয়েমারের নেতৃত্বে একদল গবেষক ৯০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর মাসব্যাপী একটি গবেষণা চালিয়ে এই তথ্য জানতে পেরেছেন।

খিটখিটে হওয়ার আসল কারণ কী?

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের শরীরে ‘কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর’ বসিয়ে সার্বক্ষণিক শর্করার মাত্রা মাপা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়:

শরীরবৃত্তীয়ভাবে গ্লুকোজ কমার চেয়ে, একজন মানুষ যখন মানসিকভাবে অনুভব করেন যে তিনি ক্ষুধার্ত, তখনই তার মেজাজ বেশি খারাপ হয়। অর্থাৎ, শক্তির ঘাটতির চেয়ে ওই সংকেতটি আমরা কীভাবে গ্রহণ করছি, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে?

খিদে ও আবেগের মধ্যে একটি সরাসরি সংযোগ রয়েছে যা মস্তিষ্কের দুটি অংশের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়:

হাইপোথ্যালামাস: এটি প্রথমে শরীরে শক্তির ঘাটতি বা খিদের বিষয়টি শনাক্ত করে।

ইনসুলা (Insula): মস্তিষ্কের এই অংশটি খিদের সংকেতটিকে সচেতন অনুভূতিতে রূপ দেয়।

মজার ব্যাপার হলো, এই ইনসুলা অংশটি একই সাথে মানুষের স্বাদ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। যার ফলে খিদের অনুভূতি দ্রুত মেজাজে প্রভাব ফেলে।

শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের আচরণগত পার্থক্য

কারো কারো দীর্ঘ সময় না খেয়েও মেজাজ ঠিক থাকে, আবার কেউ দ্রুত অস্থির হয়ে পড়েন। এর কারণ হলো 'ইন্টারোসেপশন' বা শরীরের ভেতরের সংকেত (যেমন: খিদে, তৃষ্ণা, ক্লান্তি) বুঝতে পারার সক্ষমতা।

শিশুদের ক্ষেত্রে: শিশুদের শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তারা খেলাধুলায় মগ্ন থাকে। ফলে খিদের প্রাথমিক সংকেত তারা টের পায় না। কিন্তু যখন খিদের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন তারা হঠাৎ করেই কান্না বা রাগের মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়।

ক্ষুধা লাগলে মেজাজ গরম হয়ে যাওয়া কি কোনো রোগের ইঙ্গিত?

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে: কর্মব্যস্ততা, মানসিক চাপ বা ডিজিটাল ডিভাইসে অতিরিক্ত মগ্ন থাকার কারণে অনেকেই খিদের প্রাথমিক সংকেত এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে আচমকাই তীব্র বিরক্তি বা অস্থিরতা ভর করে।

ঝুঁকি:

অতিরিক্ত খিদের কারণে খিটখিটে মেজাজ তৈরি হলে তা পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সাথে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এছাড়া মানুষ এই সময়ে আবেগপ্রবণ হয়ে দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর বা ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খেয়ে ফেলে।

করণীয়:

সচেতনতা বৃদ্ধি: নিজের শরীরের প্রয়োজনের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। খিদে বা তৃষ্ণার প্রাথমিক লক্ষণগুলো বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

পূর্বপ্রস্তুতি: খিদে একদম চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই বা মেজাজ বিগড়ে যাওয়ার আগেই পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

যারা নিজেদের শরীরের সংকেত ভালোভাবে বুঝতে পারেন, তাদের মেজাজ তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল থাকে। তাই 'হ্যাংরি' দশা এড়াতে সময়ের খাবার সময়ে খাওয়া এবং শরীরের ডাক উপেক্ষা না করাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪