| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পতন, দাম আরও কমবে দেশেও

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ৩০, ২০২৬ ইং | ১১:৪১:১৫:পূর্বাহ্ন  |  ৮০৪ বার পঠিত
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের পতন, দাম আরও কমবে দেশেও

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে এক শতাংশের বেশি পতন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার চেয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়তে পারে এমন প্রত্যাশাই বাজারে বেশি প্রভাব ফেলছে। এর জেরে ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে বড় মাসিক দরপতনের মুখে রয়েছে স্বর্ণ।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৫৬ দশমিক ৯২ ডলারে নেমে এসেছে।

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কমেছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা টানা চতুর্থ মাসিক পতন। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৬৯ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

২০২৪ সালের পর এটিই বুলিয়নের প্রথম ত্রৈমাসিক দরপতন। পাশাপাশি ২০১৩ সালের জুন ত্রৈমাসিকের পর এটিই সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে, যা স্বর্ণবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলার—এই তিনটি বিষয় স্বর্ণের দামের পক্ষে থাকা অন্যান্য ইতিবাচক প্রভাবকে ছাপিয়ে যাচ্ছে।

যদিও স্বর্ণকে দীর্ঘদিন ধরেই মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এই মূল্যবান ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেডাররা চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের তিন দফা সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ৬৪ শতাংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ফেডের পরবর্তী নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা এখন এ সপ্তাহে প্রকাশিতব্য জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান এবং অকৃষি কর্মসংস্থানের তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এদিকে, মার্কিন ডলার টানা দ্বিতীয় মাসের মতো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক মূল্যবান ধাতু কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, এ সপ্তাহে দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার ফলাফলের দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। যদিও ইরান জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো বৈঠক এখনো নির্ধারিত হয়নি।

একই সময়ে তেলের দামও ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতনের পথে রয়েছে।

এডওয়ার্ড মেয়ারের ধারণা, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরপতনের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে সাধারণত তার প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ে। সে কারণে যে কোনো সময় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম আবার কমানো হতে পারে।

এর আগে গত ২৯ জুন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে। সেদিন প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা দাম কমানো হয়।

বর্তমানে ভ্যাটসহ দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকায়।

স্বর্ণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৫৭ দশমিক ২১ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ২০৮ দশমিক ১৭ ডলারে নেমেছে। এই তিনটি ধাতুই মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে লোকসানের পথে রয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪