| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নতুন জীবন ফিরে পেলো ফটকী নদী

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২২, ২০২৬ ইং | ০০:৪৫:৩০:পূর্বাহ্ন  |  ৩২৬ বার পঠিত
নতুন জীবন ফিরে পেলো ফটকী নদী

দীপক চক্রবর্তী (মাগুরা): কচুরিপানা পরিস্কার করায় নতুন জীবন ফিরে পেলো মাগুরার ফটকী নদী । মাগুরা সদর ও শালিখা উপজেলার মধ্যে প্রবাহিত ফটকী নদী দীর্ঘ দিন ধরে কুচুরিপানায় নিমজ্জিত থাকায় মৎস্যজীবিদের জীবিকা নির্বাহ সহ জলজ প্রানীর জীবন ধারন কঠিন হয়ে পড়ে।যার ফলে ভোগান্তিতে ছিলো নদী পাড়ের মৎস্যজীবিরা।  ফলে, এ নদীর মাছসহ জীববৈচিত্র ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার করতে গতকাল ২১ জুলাই মঙ্গলবার এলাকার মৎস্যজীবিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে একাত্মতা ঘোষনা করে লেগে যায় নদী থেকে কুচুরিপানা পরিস্কার করা কাজে।  

প্রাচীন আমল থেকেই মাগুরার শালিখা অঞ্চল দেশী মাছের জন্য খ্যাত ছিলো। কিন্তু কালের গহ্বরে বিলুপ্ত হতে চলেছে এসকল দেশীয় প্রজাতীর সকল মাছ। এক সময় এ অঞ্চলের নদ-নদী,খাল-বিলে প্রচুর পরিমানে পাওয়া যেতো পুঁটি,ট্যাংরা, কৈ,শিং,মাগুর,পাবদা,রয়না, খয়রা,বাইন শৈল, গজার,রুই,কাতল,মৃগেল,কালবাউশ, আইড়সহ প্রচুর পরিমানে পাওয়া যেতো সকল প্রকার দেশী প্রজাতীর মাছ। তবে  বন্যা,অপরিকল্পিত বাঁধ,দখলদারদের দখল,ময়লা-আর্বজনা,কচুরিপানা জমাট এর ফলে নাব্যতা হারাতে চলেছে মাগুরা ও শালিখা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নদী গুলো। শালিখার এ নদী গুলো হলো ফটকী,বেগবতী,চিত্রা। সংস্কারের অভাবে এ নদী গুলি প্রায় মৃত হতে চলেছে।  নদীগুলি সংস্কার হলে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধাসহ রক্ষা পাবে ওই এলাকার জীববৈচিত্র। নদ নদীর পাশাপাশি খাল বিলেরও ব্যাপক ভুমিকা রযেছে। যা আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভ’মিকা রাখে।

ভারত থেকে আসা একটি নদী ঝিনাইদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে মাগুরা সদর ও শালিখা উপজেলা ও নড়াইল জেলার মধ্যে দিয়ে ফটকী নদী নাম ধারন করে প্রবাহিত হয়েছে। এ নদীটি মাগুরা ও শালিখা উপজেলার ধনেশ্বরগাতী, সর্বসাংদা,দীঘল গ্রাম,ভাটোয়াইল , চুকিনগর গ্রামের হয়ে আড়পাড়া বাজারের পাশ ঘেঁসে শলই,আসবা বরই চারা হয়ে নড়াইল  মধ্য  দিয়ে ফটকী নদী নামে প্রবাহিত হয়ে চিত্রা নদীতে প্রবেশ করেছে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৯ কিঃমিঃ। এ নদীর পানি সুস্বাদু ও মিঠা পানি। বর্ষা মৌসূমে প্রায় ২০ টি বিলের পানি ও বেশ কিছু খালের পানি এ নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে থাকে। ফলে এ নদীটি মাছের অভয়ারণ্য বলা হতো এক সময়ে।

ত্রিশ বছর আগেও এ নদীটি ছিলো এই এলাকার গর্ব। এ নদীর উপর নির্ভর করে এলাকার ব্যবসা বানিজ্যের প্রসার ঘটেছিলো। বাগেরহাট,খুলনা,নওয়াপাড়া,বরিশাল,চাঁদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বড়বড় পন্যবাহী নৌকা আসা যাওয়া করতে॥ ফলে এ অঞ্চলের ভাবনহাটি বাজার ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র ছিলো। বর্তমানে মাগুরা অঞ্চলের নদী গুলো শুকিয়ে যাওয়ায় নদী সংযুক্ত প্রায় ৩০টি খাল ও ২০টি বিল এখন কৃষি জমিতে পরিনত হতে চলেছে। এসব নদী খাল বিলে পাওয়া যেতো বিভিন্ন প্রকার দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছ। দেশীয় প্রজাতির মাছের মধ্যে সরপুঁটি,পুঁটি,ট্যাংরা কৈ,শিং,পাবদা,রয়না,বাইন,রুই,কাতলা,মৃগেল,আইড়,কাল বাউশ,চিতল প্রভৃতি এ নদীর মাছ। 

মাগুরা ও শালিখা উপজেলার মধ্যে প্রবাহিত নদীটি দীর্ঘ দিন ধরে কুচুরিপানায় নিমজ্জিত থাকায় এ নদীর মাছসহ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে  এলাকার মৎস্যজীবিরা  কয়েক দফা বৈঠক করেন। অবশেষে মৎস্যজীবিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে একাত্বা ঘোষণা করে লেগে যায় এ নদী পরিস্কারের কাজে। প্রায় শতাধিক লোক স্বেচ্ছায় নদী পরিস্কারে কাজ করেন। বর্তমানে নদীটি পরিস্কার হওয়ায় নদীর দু’পাশে বসবাসকারীরা সুফল ভোগ করতে চলেছে। এতে এলাকার জনমনে স্ব¯িত ফিরে এসেছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলাভ’মি রক্ষায় দেড় কিলোমিটার এ খালের কচুরিপানা পরিস্কার ও মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে । এতে কয়েক শত মৎস্যজীবির জীবন জীবিকা স্বচ্ছল হতে চলেছে। 

 মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি (কৃষ্ণরামপুর) গ্রামের সরজিৎ রায়, মিঠুন বিশ্বাস,প্রশান্ত বিশ্বাস,সুর্বন বিশ্বাসসহ একাধিক মৎসজীবিরা জানান, দীর্ঘ দিন যাবৎ এ নদীতে কুচুরিপানা ভরে থাকায় মৎস্য জীবিরা অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছিলো। ফলে, নিরূপায় হয়ে নিজেরাই নিজ উদ্যোগে কুচুরিপানা পরিস্কার করতে লেগেছে।    

শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন,শালিখা উপজেলার প্রাচীন এ পূর্বে দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য ছিল । এ অঞ্চলের মানুষ এ নদী থেকে মাছ ধরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো । প্রায় ৪৯ কিলোমিটার এ নদীর দু’ধারে অনেক গরীব অসহায় মানুষ বাস করছে । যাদের একমাত্র জীবিকার আশ্রয় স্থল এই ফটকী নদী। নদীর পরিবেশ রক্ষায় এলাকার মৎস্য জীবিরা নদী পরিস্কারের যে ভ’মিকা রেখেছে আমি তাদের সাধুবাদ জানাই।  এ বিষয়ে আমার সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে । পরিবেশ রক্ষায় আমরা সব সময় কাজ করছি । আমরা চাই আমাদের মাগুরার পরিবেশ সবুজের সমারোহে ভরে থাক । সেই সাথে নদ নদী, খাল বিলে ভরে উঠুক দেশীয় প্রজাতির মাছ। 

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪