| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রসায়ন প্রশ্নপত্রে ভুল, মূল্যায়নের নির্দেশিকা দিলো শিক্ষা বোর্ড

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৬, ২০২৬ ইং | ১১:১৮:৪৯:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৩৫ বার পঠিত
রসায়ন প্রশ্নপত্রে ভুল, মূল্যায়নের নির্দেশিকা দিলো শিক্ষা বোর্ড

স্টাফ রিপোর্টার: এইচএসসি পরীক্ষার রসায়ন দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নপত্রে একাধিক ভুলের অভিযোগের পর উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষার্থীদের প্রতি সহনশীল থাকার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এ জন্য প্রশ্নভিত্তিক নমুনা উত্তর ও নম্বর দেওয়ার নির্দেশিকা (রুব্রিকস) প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রুব্রিকসে প্রতিটি প্রশ্নের সম্ভাব্য সঠিক উত্তর এবং নম্বর বণ্টনের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থী আংশিকভাবে সঠিক উত্তর দিলে সেই অনুযায়ী আংশিক নম্বর দিতে বলা হয়েছে। তবে অপ্রাসঙ্গিক বা ভুল উত্তরের জন্য কোনো নম্বর দেওয়া হবে না।

বোর্ডের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো পরীক্ষার্থী বিক্রিয়ার অর্ধসমীকরণ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারলে, সঠিক সূত্র লিখতে পারলে বা নির্দিষ্ট কোনো ধারণার যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারলে তাকে সংশ্লিষ্ট অংশের জন্য আংশিক নম্বর দিতে হবে। প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের (ঘ) অংশে উচ্চতর দক্ষতার জন্য ৪ নম্বর নির্ধারিত। এ অংশে শুধু গাণিতিক বিশ্লেষণ নয়, প্রয়োজনীয় যৌক্তিক ব্যাখ্যাও বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে।

গত ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত রসায়ন দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একাধিক ত্রুটির অভিযোগ ওঠে। শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্নের ভুল ও অস্পষ্টতার কারণে পরীক্ষার্থীরা বিভ্রান্তির পাশাপাশি মানসিক চাপেও পড়েন। বিশেষ করে প্রশ্ন সমাধানের সক্ষমতা থাকা শিক্ষার্থীরা এসব ত্রুটির কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তাঁরা দাবি করেন।

প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সৃজনশীল প্রশ্নের ১ নম্বর উদ্দীপকের (II) অংশে বিক্রিয়া থেকে চারটি উৎপাদ পাওয়া গেলেও কোনটির ভর ২ দশমিক ৫ গ্রাম—তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে জারকের ভর নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।

৫ নম্বর উদ্দীপকে ‘পাত্র-১’ উল্লেখ করা হলেও পরবর্তী ‘গ’ ও ‘ঘ’ প্রশ্নে সেটিকে ‘A-পাত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ৬ নম্বর উদ্দীপকের ‘গ’ অংশে ২৫০ মিলিলিটার গ্যাস উৎপাদনে প্রয়োজনীয় মাতৃ যৌগের পরিমাণ নির্ণয়ের প্রশ্নে গ্যাসটির তাপমাত্রা ও চাপ উল্লেখ করা হয়নি।

একই উদ্দীপকের ‘ঘ’ অংশে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে CO₂ গ্যাসের ক্ষেত্রে Z-এর মান ৪ দশমিক ০ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মতে, এ ফল বাস্তব গ্যাসের ধর্ম ও তরলীকরণ তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ ছাড়া ৮ নম্বর উদ্দীপকের ‘ঘ’ অংশে ‘ভ্যান ডার ওয়ালস’ সমীকরণকে ‘আদর্শ গ্যাসের সমন্বয় সমীকরণ’-এর পরিবর্তিত রূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দাবি, এ ব্যাখ্যা সংজ্ঞাগতভাবে সঠিক নয়। তবে দেশের কিছু পাঠ্যবইয়ে একই ধরনের ব্যাখ্যা রয়েছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

শুধু সৃজনশীল অংশেই নয়, বহুনির্বাচনি প্রশ্নেও ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। যমুনা (ঘ) সেটের ১০ নম্বর প্রশ্নে কোনো সঠিক উত্তর নেই বলে দাবি করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের মতে, পাঠ্যবই অনুযায়ী শুধু ‘iii’ সঠিক হলেও প্রশ্নের বিকল্পে সেটিকে একক উত্তর হিসেবে দেওয়া হয়নি।

এর আগে এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রেও দুটি বড় ধরনের ভুল ধরা পড়ে। পরে ওই দুই প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষাবিদ ও পরীক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশ্নের ত্রুটির কারণে যাতে কোনো পরীক্ষার্থী নম্বর থেকে বঞ্চিত না হন, রুব্রিকস অনুযায়ী উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করা জরুরি।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪