| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

প্রকৃতিতে সবচেয়ে নিখুঁত গোলাকার বস্তু কোনটি?

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৫, ২০২৬ ইং | ২০:১৪:৩৭:অপরাহ্ন  |  ২৩৬ বার পঠিত
প্রকৃতিতে সবচেয়ে নিখুঁত গোলাকার বস্তু কোনটি?

ফিচার ডেস্ক: মানুষের তৈরি হোক বা প্রকৃতির সৃষ্টি, কোনো বস্তুই গাণিতিক অর্থে একেবারে নিখুঁত গোলক নয়। তবে গোলাকারত্বের বিচারে প্রাকৃতিক বস্তুর একটি ক্রম নির্ধারণ করা যায়।

বহু বছর ধরে সূর্যকে প্রকৃতিতে পর্যবেক্ষণ করা সবচেয়ে গোলাকার বস্তু হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু পরে বিজ্ঞানীরা প্রায় ৫ হাজার আলোকবর্ষ দূরে এমন একটি নক্ষত্রের সন্ধান পান, যা সূর্যের চেয়েও বেশি নিখুঁত গোলাকার।

সূর্যের ব্যাস প্রায় ৮ লাখ ৬৫ হাজার মাইল। এত বিশাল আকারের হলেও এটি প্রায় নিখুঁত গোলাকার।

ঘূর্ণনের প্রভাবে এর বিষুবীয় ও মেরু ব্যাসের মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে, সবচেয়ে চওড়া ও সবচেয়ে সরু অংশের ব্যবধান মাত্র ৬ দশমিক ২ মাইল। অর্থাৎ সূর্য প্রায় ৯৯.৯৯৯৭ শতাংশ নিখুঁত গোলক, যা মহাজাগতিক জ্যামিতির এক বিস্ময়কর উদাহরণ।

তবে এখন আর সূর্যের দখলে নেই এই রেকর্ড। ২০১৬ সালে জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর সোলার সিস্টেম রিসার্চের একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী ঘোষণা দেন, তারা প্রকৃতিতে এ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা সবচেয়ে গোলাকার বস্তুটির সন্ধান পেয়েছেন। এর নাম কেপলার ১১১৪৫১২৩।

এটি সূর্যের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বড় একটি উজ্জ্বল এ-টাইপ নক্ষত্র এবং সূর্যের তুলনায় প্রায় তিন গুণ ধীরে ঘোরে। ধীরগতির ঘূর্ণনের ফলে কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাব কম থাকে, তাই এটি আরও নিখুঁত গোলাকার আকৃতি ধরে রাখতে পারে।

গবেষকদের মতে, নক্ষত্রটির অসাধারণ গোলাকার হওয়ার পেছনে আরও কিছু কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বিষুবরেখা ঘিরে থাকা দুর্বল চৌম্বক ক্ষেত্র, যা একটি বিশাল বেল্টের মতো নক্ষত্রটিকে গোলাকার রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি নক্ষত্রটির কেন্দ্র ও পৃষ্ঠের ঘূর্ণনের গতির পার্থক্যও ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ ভেতরের কেন্দ্রের তুলনায় বাইরের স্তরগুলো দ্রুত ঘুরতে পারে, ফলে বাইরে থেকে যত দ্রুত ঘুরছে বলে মনে হয়, বাস্তবে পুরো নক্ষত্রটির ঘূর্ণন ততটা দ্রুত নাও হতে পারে।

অ্যাস্টেরোসিসমোলজি অর্থাৎ নক্ষত্রের কম্পন বিশ্লেষণের বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নক্ষত্রটির আকৃতি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন। তারা দেখেন, কেপলার ১১১৪৫১২৩–এর বিষুবীয় ও মেরু ব্যাসার্ধের পার্থক্য মাত্র ১ দশমিক ৮৬ মাইল। অথচ নক্ষত্রটির গড় ব্যাসার্ধ প্রায় ৯ লাখ ৩২ হাজার মাইল।

গোলাকারত্বের বিচারে কেপলার ১১১৪৫১২৩–এর এই রেকর্ড ভাঙা ভবিষ্যতে যে কোনো নতুন আবিষ্কারের জন্যই অত্যন্ত কঠিন হবে। তথ্যসূত্র: ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্টস

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪