| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অপরাধ করে থাকলে মো. সাহাবুদ্দিনের বিচারে বাধা নেই

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৬, ২০২৬ ইং | ১৮:৪৭:৩৮:অপরাহ্ন  |  ১২২৮ বার পঠিত
অপরাধ করে থাকলে মো. সাহাবুদ্দিনের বিচারে বাধা নেই

আমিনুল ইসলাম মল্লিক: সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগ করায় তিনি এখন দেশের সাধারণ নাগরিক। পদত্যাগের পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জুলাই যোদ্ধারা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ আজাদ পার্টি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। এতে বলা হয়, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এত মানুষ মারা গেলেও রাষ্ট্রের তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারতেন, কিন্তু সে সময় তিনি কোনো ভূমিকা রাখেননি। ৫ আগস্ট পর্যন্ত আয়নাঘর, গুম-খুন ইত্যাদির বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। এসব অপরাধে তার মৌন সম্মতি ছিল, তাই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’

এদিকে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনের আগে বা পরে ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ করে থাকলে সে বিষয়ে মামলা দায়ের, অনুসন্ধান, তদন্ত ও বিচারে কোনো বাধা দেখছেন না দেশের বিশিষ্ট কয়েকজন আইনজীবী। তারা বলছেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ও পরে তার যেকোনো ফৌজদারি ও দেওয়ানি অপরাধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।

তাদের মতে, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মেয়াদকালের কর্মকাণ্ডকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এ পদে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের বাইরে যদি তিনি ব্যক্তিগত অপরাধ করে থাকেন, তাহলে সেই অপরাধের বিচার হতে পারে। তারা উদাহরণ হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জেল খাটার প্রসঙ্গ সামনে আনেন। আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পদত্যাগের পর তাকে কারাগারে যেতে হয়েছিল, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডও হয়।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ৫১ অনুচ্ছেদ সব কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পূর্ণ দায়মুক্তি দেয় না। দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরের কাজ, দুর্নীতি, ফৌজদারি অপরাধ বা রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কোনো অপরাধ এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। ফলে দাপ্তরিক সীমার বাইরে থাকা কাজের জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকেও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা সম্ভব।

জানতে চাইলে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, পদত্যাগ করায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এখন সাধারণ নাগরিক। তিনি রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালনের আগে কোনো অপরাধ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা হতে কোনো বাধা নেই। তবে মামলা কে করবে, সরকারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে বলে মনে হয় না। কারণ কয়েকদিন আগে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মামলা করলেই তো হবে না। ঘটনা যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. শিশির মনির বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে কিংবা কার্যভারকাল যদি তিনি ফৌজদারি অপরাধ করে থাকেন, দায়িত্ব পালন শেষ হওয়ার পর অবশ্যই আইন অনুযায়ী তার বিচার করা যাবে। এক্ষেত্রে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ কোনো বাধা নেই।

এদিকে পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলছেন ভিন্ন কথা। সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিসের বিচার করবে? আমি কি অপরাধ করেছি। আমাকে হেয় করার জন্য এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।’

গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার বিকাল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার বিরুদ্ধে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনারসহ বিভিন্ন দায়িত্বে থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারকে রক্ষার চেষ্টা, ব্যাংক খাতের লুটপাট ও দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়া এবং জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তার বিচারের দাবি করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

এদিকে সদ্য পদত্যাগী সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকলে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মামলা থাকলে সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, সেটাও দেখা হবে বলে জানান তিনি। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকারবিষয়ক পরামর্শ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার ৫ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২ বছর আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে শুক্রবার তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

রিপোর্টার্স২৪/এআইএম/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪