| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই একরাম হত্যা: চিফ প্রসিকিউটর

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৬, ২০২৬ ইং | ১৯:১১:৩২:অপরাহ্ন  |  ১৪১২ বার পঠিত
বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই একরাম হত্যা: চিফ প্রসিকিউটর

স্টাফ রিপোর্টার: ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

রোববার (২৬ জুলাই) একরামুল হক হত্যা মামলায় গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাসিনা ছাড়াও অন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন- ক্ষমতাচ্যুত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আব্দুর রহমান বদি, র‍্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান তুষার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম মিনু, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন ওরফে রাজন, স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস মাহমুদ ওরফে রাজু এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান ওরফে সৈকত। এদের মধ্যে আব্দুর রহমান বদি, আনোয়ার লতিফ খান ও মাহাবুব আলম অন্য মামলায় বর্তমানে আটক রয়েছেন।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তার থাকা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘একরাম হতাকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপোর্ট দিয়েছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। যারা আটক আছে তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। আর যারা পলাতক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।’

তিনি বলেন, আব্দুর রহমান বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই এ ঘটনা ঘটেছিল। একরাম ছিলেন তার প্রতিপক্ষ। একরামকে হত্যার পর তার সম্পত্তি এই বদি বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেছিলেন। নেপথ্য নায়ক ছিলেন বদি।

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাব ও এর সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তখন তাদের বিবৃতিতেও একরাম হত্যার প্রসঙ্গ এসেছিল। ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছিলেন তখন র‍্যাবের দায়িত্বে থাকা বেনজীর আহমেদ ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ।

বেনজীর আহমেদ সম্প্রতি দুবাইতে আটক হয়েছেন বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, 'তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের মতের বিরুদ্ধে গেলেই টার্গেট করে অপহরণ করতো। কাউকে আয়নাঘরে বা কাউকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হতো। এমনই একটি ঘটনা একরাম হত্যা। মোবাইল সুইচ অন থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী ও মেয়েরা ফায়ারিং আওয়াজ ও কথোপকথন শুনতে পেরেছিল। এ সব কিছু আমরা আলামত হিসেবে নিয়েছি। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে সুপ্রিরিয়র রেসপনসিবিলিটি হিসেবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামাল,ওবায়েদুল কাদের ও আব্দুর রহমান বদির নাম এসেছে।

র‍্যাবের কথিত মাদকবিরোধী অভিযানে ২০১৮ সালের ২৬ মে একরামুল হক কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে নোয়াখালিয়া পাড়ায় নিহত হয়েছিলেন।

তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন এবং প্রায় এক যুগ তিনি ছিলেন টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি।

তখন কথিত বন্দুকযুদ্ধে তার নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে রেকর্ড করা একটি অডিও প্রকাশ হওয়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

ওই অডিও রেকর্ড পরিবারের পক্ষ থেকে কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের শোনানো হয়েছিল।

একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা বেগম তখন সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে ডিজিএফআই এবং র‍্যাবের স্থানীয় দুজন কর্মকর্তা ডেকে নিয়ে হত্যা করেছেন।

কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি যে অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেন, তাতে একরামুল হকের সঙ্গে তার মেয়ের কথোপকথন শোনা গিয়েছিল।

ওই কথোপকথনের এক পর্যায়ে একরামের কন্যাকে বলতে শোনা যায়, ‘আব্বু তুমি কান্না করতেছো যে....’। এরপরেই গুলি ও গোঙানির শব্দও শোনা গিয়েছিল। পরে এই অডিও রেকর্ড ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪