ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) দাবি করেছে, ইরাকজুড়ে তাদের একাধিক সদর দপ্তরে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত আট সদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে চালানো এ হামলার বিষয়টি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর সমন্বয়ে ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে এ হামলা চালানো হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা একাধিক ড্রোন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং রাজধানী রিয়াদের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। তবে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়।
সৌদি আরব আরও জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত।
অন্যদিকে, পিএমএফ এক বিবৃতিতে এ হামলাকে ‘চরম বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব এবং দেশটির সরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর সরাসরি আঘাত।
এদিকে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বৃহস্পতিবার সৌদি আরব সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর কয়েক দিন আগে সৌদি আরবে হওয়া ড্রোন হামলার ঘটনায় তিনি তদন্তের নির্দেশ দেন।
সোমবার ইরাকের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দেশটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়।
অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ সৌদি আরবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, কথিত ড্রোন হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সৌদি আরবের অভিযোগকে ‘মনগড়া’ আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, রিয়াদের যেকোনো বেপরোয়া পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম