| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সংসদে আইন প্রণয়নে সময় খুব কম ব্যয় হয়: ডেপুটি স্পিকার

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ইং | ২২:৪৮:১১:অপরাহ্ন  |  ৩৬৪ বার পঠিত
সংসদে আইন প্রণয়নে সময় খুব কম ব্যয় হয়: ডেপুটি স্পিকার

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদে ঐতিহাসিকভাবেই আইন প্রণয়নে সময় খুব কম ব্যয় হয় বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, সংসদ আইন প্রণয়নের জন্য হলেও ঐতিহাসিকভাবে আইন প্রণয়নে যে পরিমাণ সময় ব্যয় করা হয়, তা দেখে মনে হয় সংসদের মূল কাজ যেন আইন পাস করা।

নির্বাহী বিভাগ থেকে প্রণীত খসড়া আইন প্রণেতারা যথাযথভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে পাস করতে না পারলে, সেই আইন বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের বিতর্ক সংসদের আয়োজনে আন্তক্লাব ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কায়সার কামাল বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে সহিষ্ণুতার জায়গা তৈরি হয়। এক পক্ষ একটি যুক্তি দিলে অন্য পক্ষ সেই যুক্তি খণ্ডন করে পাল্টা যুক্তি দেয়। এভাবেই যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির মধ্য দিয়ে সহিষ্ণুতার চর্চা হয়। সংসদের বাইরে আমরা যে সহিষ্ণুতা দেখতে পাই, দুঃখজনকভাবে সংসদে তার কিছুটা অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

আমার মনে হয়, সংসদ সদস্যরা যদি এ ধরনের বিতর্ক দেখেন, তাহলে বিতর্ক থেকে পাওয়া সহিষ্ণুতার অভিজ্ঞতা সংসদের কার্যক্রমেও কাজে লাগাতে পারবেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদ আইন প্রণয়নের জন্য। এটি রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান অঙ্গের একটি। সংসদ যে আইন প্রণয়ন করবে, নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করবে এবং বিচার বিভাগ সেটির তদারকি করবে। কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নে যে পরিমাণ সময় ব্যয় করা হয়েছে, তার চেয়ে অন্য আলোচনায় বেশি সময় ব্যয় হয়েছে। বিষয়টি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে খুব কষ্ট দেয়।

তিনি বলেন, সংসদের একেকটি সেশন একেক রকম। সপ্তম সংসদে মাত্র ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ সময় আইন প্রণয়নের জন্য ব্যয় করা হয়েছে। অষ্টম সংসদে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, নবম সংসদে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং দশম সংসদে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ সময় আইন প্রণয়নে ব্যয় করা হয়েছে। একাদশ সংসদে এই হার ছিল ১৭ শতাংশ। দ্বাদশ সংসদে আইন প্রণয়নে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ সময়। বর্তমান সংসদে এখন পর্যন্ত আইন প্রণয়নে ১২ শতাংশ সময় ব্যয় হয়েছে।

কায়সার কামাল বলেন, সংসদ আইন তৈরির জন্য হলেও ঐতিহাসিকভাবে আইন প্রণয়নে সময় ব্যয়ের চিত্র দেখে মনে হয়, সংসদের মূল কাজ যেন আইন পাস করা। এ কারণেই গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া দিন দিন আমাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, সংসদে আইন আসে নির্বাহী বিভাগ থেকে। তারা একটি আইনের খসড়া তৈরি করে সংসদে পাঠায়। সেখানে পর্যাপ্তসংখ্যক আইন প্রণেতা থাকলেও যদি তারা আইনটি যথাযথভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে পাস করতে না পারেন, তাহলে সেই আইন বাংলাদেশের মানুষের জন্য আদৌ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, যারা আইনের খসড়া তৈরি করেন, তারা জনগণের প্রতিনিধি নন। জনগণের কাছে তাদের যে ধরনের দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন, সেটি তাদের নেই। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন। ফলে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদে যদি কার্যকর লেজিসলেটিভ প্রক্রিয়া থাকে, তাহলে আমরা জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে পারব। শুধুমাত্র ‘রাবার স্ট্যাম্প’ হিসেবে পার্লামেন্টকে আমরা চাই না।

কায়সার কামাল আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গত তিন-চার দিনে ঢাকা শহরে আমরা যে পরিস্থিতি দেখছি, তা কখনো চিন্তা করতে পেরেছিলাম কি না—এ প্রশ্ন থেকেই যায়। যে ধরনের সন্ত্রাস শুরু হয়েছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার যে পাঁয়তারা চলছে, তা কেউ প্রত্যাশা করেনি।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শক্তিগুলোর মধ্যে কম-বেশি ঐক্যের অভাব রয়েছে। এ কারণে ফ্যাসিবাদী শক্তি বা অপশক্তিগুলো আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। আমরা যদি আমাদের ঐক্য বা একতা ধরে রাখতে না পারি, তাহলে গণতন্ত্র আবারও ব্যাহত হতে পারে।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, গণতন্ত্রের পূর্বশর্তই হচ্ছে অংশীদারত্বের নেতৃত্ব। সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে আমি সবকিছু চালাব-এটি গণতন্ত্র নয়। একজনও যদি আমার বিপরীতপক্ষে থাকেন, তার কথাকে আমাকে সম্মান দিতে হবে, তাঁর কথা শুনতে হবে। প্রয়োজনে সেই কথাকে ধারণ করে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলের বিতার্কিকদের সংসদের অধিবেশন দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যোগাযোগ করলে তাদের সংসদ অধিবেশন দেখার ব্যবস্থা করা হবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪