রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মার্চে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ খুব কমই প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম বড় ভাষণে তিনি দেশের নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং অশান্তি দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি মিছিল চলাকালে উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা বহনকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেই উত্তেজনা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফল জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালালে দুজন নিহত হন। এছাড়া কারফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী সিরাহা জেলায় বিক্ষোভ চলাকালে আরও একজন নিহত হন।
পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় সুনসারি ও আশপাশের জেলাগুলোতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, “আমি সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় সম্প্রদায়, সম্মানিত নেতা, রাজনৈতিক দল এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের প্রতি আন্তরিকভাবে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বলেন, দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কাজ করছে। মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফল বলেন, মাঠে থাকা সব পুলিশ কর্মকর্তাকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং যেকোনো সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম