কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬ -এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত পছন্দ, মেধা-যোগ্যতা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বিবেচনায় স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার দিবাগত রাতে ফলাফল প্রকাশের পর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের জন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচন কীভাবে করা হয়েছে, কী কী যোগ্যতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং আবেদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রার্থী সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে। এছাড়াও মাস্টার রোলে চাকরিরত, মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষার শিক্ষক এবং আনসারে চাকরিরত ব্যক্তি এবং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতির ছেলেকেউ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পারভেজ নামের একজন লিখেছেন, কালাই ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো মেধা বা যোগ্যতার মূল্যায়ন হয়নি, পুরো বিষয়টিই হয়েছে ব্যক্তিগত পছন্দ আর স্বজনপ্রীতির ওপর ভিত্তি করে।
তিনি আরও লেখেন, প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা যদি এভাবে বঞ্চিত হয়, তবে এসব প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যাবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে পুনরায় তদন্ত ও স্বচ্ছ করা উচিত।
আল আমিন মহান নামের এক প্রার্থী ফেসবুকে লিখেন, কালাইয়ে ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি বলে মনে করি। উদয়পুর ইউনিয়নের প্রার্থীদের ভাইভায় পরিচয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতা জানার পরই বের করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি কিছু আমলা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যোগসাজশে এমন নিয়োগ অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
আনোয়ার নামের আরেক প্রার্থী লিখেন, জয় হোক জাতীয়তাবাদের। দলীয় প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ভাই-ভাতিজা ও প্রকল্পে চাকুরিতে থাকা ব্যক্তিদের মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য উপজেলায় ওয়ার্ড-গ্রামের নামসহ ফল প্রকাশ হলেও কালাইয়ে তা করা হয়নি। পূর্ব অভিজ্ঞতা ও মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করলেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে আমার নাম তালিকায় আসেনি । আমি এ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও মেধাভিত্তিক পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানাই।
তানিয়া আক্তার বৃষ্টি নামের এক ফেসবুক আইডি থেকে লিখেন, আহাম্মেদাবাদ ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে মনোনীত আরিফুল রহমান জনি, তানজিলা বেগম ও পলি আক্তার, যাদের রক্তে ও সপরিবারে আওয়ামী লীগ। খোঁজ নিলে ১০০% নিশ্চিত হবে।
এছাড়াও আরো অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে । কেউ কেউ নিয়োগের মানদণ্ড প্রকাশ এবং আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের তথ্য জনসম্মুখে আনার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহল বলছেন, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা সম্পর্কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া দরকার। এতে একদিকে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের আস্থা ফিরবে, অন্যদিকে সরকারি কর্মসূচি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তিও কমবে।
কালাই উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব মো: সাদিকুর রহমান কে মুঠোফোনে বারবার কল দিলে রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারীর নির্বাচন কমিটির সভাপতি মো: ফয়সাল আহমেদ বলেন, যারা এক্সপার্ট তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেভাবে ভাইভা হয়েছে এবং ভাইভা ডেক্সে যারা ভালো করেছে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব