| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দুই কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ হলেও মামলায় দেখানো হলো মাত্র ৩ লাখ টাকা

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৪, ২০২৬ ইং | ০৫:৩৪:০৮:পূর্বাহ্ন  |  ৩৭২ বার পঠিত
দুই কোটি টাকার নকল সিগারেট জব্দ হলেও মামলায় দেখানো হলো মাত্র ৩ লাখ টাকা

দৌলতপুর প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় অভিযানের পর জব্দ করা মালামালের পরিমাণ ও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা জব্দ তালিকা নিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযানের সময় ২০ লক্ষাধিক শলাকা, নকল সিগারেট ও সিগারেট তৈরির বিভিন্ন উপকরণ মিলিয়ে ২ কোটি ৪ লক্ষ ১৪ হাজার টাকার মালামাল জব্দের কথা জানানো হলেও, রাতে দায়ের করা মামলায় জব্দ দেখানো হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার শলাকা, সিগারেট ও ২৫ বস্তা তামাক যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।

অভিযানের সময় জব্দের পরিমাণ যদি দুই কোটি টাকা হয়ে থাকলে মামলার এজাহারে মাত্র তিন লাখ টাকার মালামাল কীভাবে এলো এ প্রশ্নই এখন সবার সামনে এসেছে। তবে দুই কোটি ও তিন লাখ টাকার মধ্যে এমন বিশাল ব্যবধানের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে জব্দ করা বাকি সিগারেট ও অন্যান্য মালামাল কোথায় গেল তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে মাস্টারের গরুর খামারের ভেতরে থাকা একটি গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশ। এ সময় দৌলতপুর থানা পুলিশের সদস্য ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গোডাউন থেকে ডার্বি, নেভি ও রয়েল ব্র্যান্ডের ২০ লাখেরও বেশী শলাকা, নকল সিগারেট এবং সিগারেট তৈরির বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়। অভিযানের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন জব্দ করা মালামালের মূল্য ২ কোটি ৪ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা বলে জানানো হয়েছিল।

কিন্তু বুধবার রাতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর পক্ষে কাজী মর্তুজা রেজা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় যে মামলা করেন, সেখানে জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার শলাকা, নকল সিগারেট ও ২৫ বস্তা সিগারেট তৈরির তামাক। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।

এ নিয়ে জনমনে ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে, অভিযানের সময় যদি ২০ লক্ষাধিক শলাকা, নকল সিগারেট জব্দ করা হয়ে থাকে, তাহলে মামলার জব্দ তালিকায় মাত্র ২৫ হাজার শলাকা কেন উল্লেখ করা হলো? একইভাবে অভিযানের সময় জব্দ করা অন্যান্য মালামাল ও সরঞ্জামের কী হয়েছে, সেটিও পরিষ্কার নয়।

উল্লেখ্য, ওই কারখানায় এর আগেও অভিযান চালানো হয়েছিল। গত ৯ মে কুষ্টিয়া র‌্যাব-১২ ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তাদের যৌথ অভিযানে একই স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি নকল সিগারেট তৈরির মেশিন ও প্রায় এক লাখ শলাকা ও নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছিল।

তবে স্থানীয়দের দাবি, সিলগালার কিছুদিন পরই কারখানাটি আবার চালু করা হয়। কীভাবে সিলগালা করা কারখানা পরবর্তীতে পুনরায় চালু হলো এবং জব্দ করা মেশিন কীভাবে আবার সেখানে পাওয়া গেলÑএ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বুধবারের অভিযানের পর দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ওই কারখানায় নকল সিগারেট তৈরির যে মেশিন রয়েছে, সেটির দাম প্রায় দুই কোটি টাকার কাছাকাছি। মেশিনটি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে মেশিনটি জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি। মেশিনটি কার হেফাজতে রয়েছেÑএমন প্রশ্নের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

অভিযান পরিচালনাকারী দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, অভিযানের সময় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর প্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা যে পরিমাণ মালামালের বর্ণনা দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী জব্দ করা মালামাল ও এর আনুমানিক বাজারমূল্যের তথ্য জানানো হয়েছিল। তবে দুই কোটি টাকার জব্দ করা মালামাল কীভাবে তিন লাখ টাকা হলো, বিষয়টি মামলার বাদীই ভালো বলতে পারবেন বলে তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, অভিযানের পর বাদী পক্ষের এমন কর্মকাণ্ড আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বাদী পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।

অন্যদিকে মামলার বাদী কাজী মর্তুজা রেজা বলেন, আমরা ওই গোডাউন থেকে যে পরিমাণ মালামাল জব্দ করেছি, সেটিই এজাহারে উল্লেখ করে মামলা করেছি।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর পক্ষে কাজী মর্তুজা রেজা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় জব্দ করা মালামালের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতেই মামলা নেওয়া হয়েছে।

মামলায় গোডাউনের মালিক হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব মাস্টারকে ১ নম্বর আসামি করে শাকিল আহমেদ, লোকমান হোসেন লিয়ন, সিদ্দিক মণ্ডল, সাবিনা খাতুন, জিন্নাত, ইন্নাত, ফারুক ও তাশার ইমরানসহ মোট ৯জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার নামীয় আসামিদের অধিকাংশই পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গোডাউনের মালিক হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব মাস্টার দাবি করেন, জয়রামপুর এলাকার শাকিল ও বৈদ্যনাথতলা এলাকার লিয়ন হোসেনের কাছে তিনি মাসিক ৪০ হাজার টাকা গোডাউনটি ভাড়ায় দিয়েছিলেন। সেখানে নকল সিগারেট তৈরির কার্যক্রম চলছিল কি না এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন। হাবিব মাস্টার বলেন, তিনি একজন স্কুলশিক্ষক এবং বিদ্যালয়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় গোডাউনের দিকে নিয়মিত যাওয়া হতো না। তাঁর দাবি, এর আগেও র‌্যাব ও কাস্টমসের অভিযানে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছিল। পরে সেটি আবার চালু হয়।

তিনি বলেন, প্রশাসন কারখানা বন্ধ করার পরও সেটি কীভাবে পুনরায় চালু হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। তাঁর ভাষ্য, সামাজিকভাবে সম্মানের সঙ্গে বসবাসের জন্যই তিনি গোডাউনটি ভাড়া দিয়েছিলেন।

এদিকে বুধবার অভিযানের সময় জব্দ করা মালামালের পরিমাণ ও মূল্য এবং মামলার এজাহারে উল্লেখ করা জব্দ তালিকার মধ্যে যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা দিয়েছে, সেটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযানে অংশ নেয়া কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪