রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ‘দেশমাতা’ বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ ভাতার অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধার অর্থ বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিন আমাদের দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর এই দিনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষককে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগের কারণে দিনটি জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, শনিবার সারাদেশে ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে অবসর ভাতা এবং প্রায় ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রাপ্য অর্থের জন্য অপেক্ষা করা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এই অর্থ বিতরণ একটি বড় স্বস্তির বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও ভোগান্তির অবসান ঘটাতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের ‘হানিমুন পিরিয়ডের’ কর্মসূচির মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আরও কয়েকটি কাজ করার পরিকল্পনা থাকলেও তা করা সম্ভব হয়নি।
তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ভাতার জন্য অপেক্ষা করছেন। অর্থসংকট, আবেদন নিষ্পত্তিতে জটিলতা এবং প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমে ছিল।
শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ চাঁদা থেকে অবসর সুবিধার অর্থ এবং ৪ শতাংশ চাঁদা থেকে কল্যাণ ভাতার অর্থের জোগান দেওয়া হয়। তবে নিয়মিত চাঁদা থেকে যে পরিমাণ অর্থ জমা হয়, তার তুলনায় অবসর ও কল্যাণ সুবিধার জন্য আবেদনের সংখ্যা এবং অর্থের চাহিদা বেশি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ খাতে অর্থসংকট তৈরি হয়েছে।
ফলে অবসর নেওয়ার পরও বহু শিক্ষক-কর্মচারী বছরের পর বছর তাদের প্রাপ্য অর্থের অপেক্ষায় ছিলেন। এতে অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে।
এবার সেই দীর্ঘ জট কাটাতে সরকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিয়েছে। এর মাধ্যমে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে পাওনা অর্থের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অবসর-পরবর্তী সময়ে যারা আর্থিক সংকটে ছিলেন, তাদের জন্য এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষায়, খালেদা জিয়ার জন্মদিনে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও কষ্টের অবসান ঘটিয়ে তাদের ‘অশ্রু মোছার’ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম