রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বর্তমান সরকারের ন্যূনতম কোনো দায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, এ কারণে প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে আগের সরকার বিভিন্ন সময়ে বলেছে, ‘সব বন্ধ করে দেখাই আগে কী ছিল।’
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারকে বড় ধরনের বিজয় এনে দিয়েছে। সরকার যেকোনো মূল্যে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অতীতে সরকারি কর্মকর্তারা এমন একটি সরকারের অধীনে কাজ করেছেন, যাদের ক্ষমতায় থাকার ক্ষেত্রে নির্বাচিত হওয়ার কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। সেই সরকারের লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে ভোট কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা। ফলে তারা দেশের জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়নি। তিনি বলেন, ভোটের ব্যবস্থা সঠিক থাকলে একটি সরকারকে সবসময় জনগণের কথা বিবেচনায় রাখতে হয়।
বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এ সময়ে উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করছেন। আগামী ছয় মাস পর প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজও মূল্যায়ন করা হবে। এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সরকারের সব অংশকে সম্পৃক্ত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পাঁচ বছর পর সরকারকে জনগণের কাছে গিয়ে নিজেদের কাজের হিসাব দিতে হবে। কোন ক্ষেত্রে কী করা হয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার যেসব নীতি ও কর্মসূচি জনগণের সামনে নিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত থাকতে হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি কার্যকর নির্বাচনী ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে—এটাই সরকারের প্রত্যাশা। সরকারের সঙ্গে জনগণের নিয়মিত যোগাযোগ থাকবে এবং জনগণের মতামত ও ইচ্ছাকে সরকার গুরুত্ব দেবে।
শেখ হাসিনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি দেশের মানুষকে এমনকি ব্যালট পেপার হিসেবেও মূল্যায়ন করেননি। জনগণের প্রতি যথাযথ মূল্যায়ন থাকলে দেশকে এমন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়া হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ধরনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠ্য কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন উপদেষ্টা। খেলাধুলা, সংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন দেশের শিশুরা ভবিষ্যতে সব ক্ষেত্রে ভালো করবে। প্রচলিত সার্কাস ও যাত্রাপালার নেতিবাচক বিষয়গুলো বাদ দিয়ে এসব সাংস্কৃতিক আয়োজন পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মোতালেব সরকারসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক ও কালচারাল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম