| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এলএনজির দামে আগুন, এশিয়াকে টপকে গ্যাস কিনছে ইউরোপ

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ইং | ১৭:৫৮:৫৪:অপরাহ্ন  |  ৭১৯ বার পঠিত
এলএনজির দামে আগুন, এশিয়াকে টপকে গ্যাস কিনছে ইউরোপ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ায় চাপের মুখে পড়েছে এশিয়ার জ্বালানি বাজার। চড়া দামের কারণে চীনসহ এশিয়ার অনেক দেশ এলএনজি কেনা কমিয়ে দিলেও শীতের আগে মজুত নিশ্চিত করতে উচ্চমূল্যেই গ্যাস কিনে যাচ্ছে ইউরোপ।

ফলে সীমিত সরবরাহের বাজারে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে এলএনজি নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।

পণ্যবাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বরে এশিয়ায় এলএনজি আমদানি প্রায় ২০ দশমিক ০৯ মিলিয়ন টনে নেমে আসতে পারে।

গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২২ দশমিক ২৭ মিলিয়ন টন, আর আগস্টে ছিল ২২ দশমিক ২৫ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এবং মাত্র এক মাসের ব্যবধানেও এশিয়ার এলএনজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে।

এটি সেপ্টেম্বর মাসে আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন আমদানির পরিমাণ হতে পারে।

অন্যদিকে শীত মৌসুমের আগে গ্যাসের মজুত বাড়াতে ইউরোপে এলএনজি কেনাকাটা বাড়ছে।

কেপলারের হিসাবে, সেপ্টেম্বরে ইউরোপের এলএনজি আমদানি প্রায় ৭ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে। অক্টোবর মাসে তা বেড়ে ১০ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন টন হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যাস মজুতও বছরের এই সময়ের পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ পয়েন্ট কম থাকায় আমদানির চাপ আরও বাড়ছে।

এ পরিস্থিতির পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকট এবং কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নকে। কাতার বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী হওয়ায় দেশটির রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। রয়টার্সের হিসাবে, ফেব্রুয়ারির তুলনায় উত্তর এশিয়ায় এলএনজির স্পটমূল্য প্রায় ১৫০ শতাংশ বেড়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে প্রায় ২৬ ডলারে উঠেছে।

ইউরোপের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে রাশিয়ার পাইপলাইন গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায়। ফলে শীতের আগে গ্যাসের মজুত বাড়াতে ইউরোপীয় ক্রেতাদের বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, এশিয়ার চাহিদা কমে যাওয়ায় কিছু এলএনজি কার্গো ইউরোপের দিকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরও একই ধরনের পরিস্থিতিতে ইউরোপ বিপুল পরিমাণ এলএনজি কিনেছিল। পরে চাহিদা কমে যাওয়ায় বেশি দামে কেনা গ্যাস নিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান লোকসানে পড়ে। তবে এবারের সংকটে রাশিয়ার পাইপলাইন গ্যাসের আগের মতো বিকল্প সরবরাহ না থাকায় ইউরোপের সামনে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনা ছাড়া সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে চীন তুলনামূলক ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। স্পট মার্কেটের চড়া দাম এড়িয়ে দেশটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখছে। অন্যদিকে চড়া দামে এলএনজি কেনা কঠিন হয়ে পড়ায় এশিয়ার কিছু উন্নয়নশীল দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লাসহ তুলনামূলক সস্তা জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও এই পরিস্থিতি বড় চাপ তৈরি করছে। কেপলার জানিয়েছে, বাংলাদেশের এলএনজি বাজারেও বিকল্প কার্গো কেনার চাহিদা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে এলএনজি ব্যবহার কমলেও ভারত ও বাংলাদেশের মতো বাজারে চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

সব মিলিয়ে, এলএনজির সীমিত সরবরাহের বাজারে এশিয়ার চাহিদা কমলেও ইউরোপের শীতকালীন মজুতের চাপ দামকে উঁচুতে রাখছে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি ও কাতারের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক এলএনজি বাজারে এই চাপ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪