| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায় লাগাম

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ইং | ১৯:৪০:৫৪:অপরাহ্ন  |  ৩২৭ বার পঠিত
ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায় লাগাম

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইতালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরকা ও নিকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি ইতালীয় ভাষায় দুর্বল নতুন বিদেশি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ভর্তির ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই—এমন নতুন বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ রাখা হবে। একই সঙ্গে স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশটি পাস হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলোনি লেখেন, নতুন নিয়মের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় অপর্যাপ্ত দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নতুন নিয়মে কোনো শিশু স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বা শিক্ষাব্যবস্থায় মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি সামাজিক সেবা সংস্থাকে জানানোর বিধান রাখা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের জন্য বিনামূল্যে ইতালীয় ভাষা শেখার ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে এবং সেখানে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

অভিবাসনের ক্ষেত্রে ইউরোপের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার ইতালি। আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটিতে অভিবাসীদের সামাজিক একীভূতকরণ ও শিক্ষাব্যবস্থায় তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সরকারের নতুন উদ্যোগের সমালোচনা করেছে শিশু অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, কেবল কোনো শিশুর জাতীয়তা কিংবা ইতালীয় ভাষায় দুর্বলতার কারণে তাকে স্কুল পরিবর্তন করতে বা অন্য শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা প্রতিষ্ঠানে পড়তে বাধ্য করা হলে শিক্ষাব্যবস্থায় সামাজিক বৈষম্য তৈরি হতে পারে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মতো বিভাজন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।

সমালোচনার জবাবে ইতালির শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা বলেছেন, ভাষাগত দক্ষতার ঘাটতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাগ্রহণের গতিকে ব্যাহত করতে পারে।

তার মতে, একটি শিশুর শিক্ষাজীবনে সফলতার জন্য পাঠ্যক্রমের সঙ্গে অভিভাবকদের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে ইতালির প্রায় ৩৪ হাজার শ্রেণিকক্ষে ৩০ শতাংশের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে তাদের বড় অংশের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

তিনি জানান, আইনটি মূলত নতুন করে ইতালিতে আসা এবং ভাষাগতভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। ইতালিতে জন্ম নেওয়া কিংবা দেশটির কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনা করা শিশুদের ক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য হবে না।

ইতালিতে শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ সালে দেশটির শিক্ষামন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে ৩০ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থীর একটি অনানুষ্ঠানিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে সেই ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে নমনীয় ছিল। ইতালিতে জন্ম নেওয়া অথবা ইতালীয় ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সীমা বাড়ানোর সুযোগ ছিল। আবার ভাষাগত দক্ষতা কম হলে সীমা কমিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইতালির বিরোধীদলীয় নেত্রী এলিসা চেলেইন। তিনি এই পদক্ষেপকে কোমলমতি শিশুদের বিরুদ্ধে নতুন ‘ডাইনি শিকার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বোরকা নিষিদ্ধের বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কোনো নারী কিংবা বিশেষ করে কোনো অল্পবয়সী মেয়েকে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করা হলে তার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়। একই সঙ্গে এমন পরিস্থিতি সামাজিক একীভূতকরণের লক্ষ্যকেও বাধাগ্রস্ত করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইতালিতে বোরকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও সাম্প্রতিক সময়ে জোরালো হয়েছে। গত জুলাইয়ে দেশটির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) স্কুলে বোরকা ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তোলে।

ক্ষমতাসীন জোটের বাইরে থাকা দলটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর বিভিন্ন জনমত জরিপে দলটির সমর্থন বাড়তে শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইতালির সরকারের নতুন অধ্যাদেশে একদিকে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা ও শ্রেণিকক্ষে তাদের সংখ্যা নিয়ে নতুন বিধিনিষেধ দুটি বিষয়ই একসঙ্গে আলোচনায় এসেছে। সরকার এগুলোকে নিরাপত্তা, ভাষাগত সক্ষমতা ও শিক্ষার মানের সঙ্গে যুক্ত করলেও শিশু অধিকার সংগঠন ও বিরোধীদের একাংশ এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সূত্র: এএফপি


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪