| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মাগুরায় পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল, জেলা জিএম সাসপেন্ড, বিদ্যুৎ মন্ত্রীর দু:খ প্রকাশ

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ইং | ১৫:৫৭:১৩:অপরাহ্ন  |  ৩২৩ বার পঠিত
মাগুরায় পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল, জেলা জিএম সাসপেন্ড, বিদ্যুৎ মন্ত্রীর দু:খ প্রকাশ

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অস্বাভাবিক এই বিল দেখে হতবাক গ্রাহক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়।

ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিদ্যুৎ বিভাগের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি। একই সঙ্গে ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের এই বিল ইস্যু করা হয়। তিনি ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী।

বিলের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন মাত্র ২৩৫ ইউনিট।

কিন্তু এই ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে স্বাভাবিক চার্জের সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিলের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ ওই বিলের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ানোর কথা ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্বাভাবিক বিল হওয়ার কথা মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ যার পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা ২ হাজার ৫৬ টাকা।

১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা ওই বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। বিলটিতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলাম আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিমসহ বিল প্রস্তুতের সঙ্গে জড়িত কম্পিউটার অপারেটর, মিটার বিলিং অপারেটর ও সুপারভাইজারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

নোটিশে কী কারণে এমন অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে, তা সাত দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়।

এর মধ্যেই বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনের মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এ সময় বিদ্যুৎ বিভাগের ভুলের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ঘটনায় দায় নির্ধারণের পর মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, ‘এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে গ্রাহকের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার হওয়া জরুরি।’

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন হওয়ার সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যায়। এ কারণেই এত অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর বিলটি দ্রুত সংশোধন করা হয়েছে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিতুল ইসলামও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪