| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জি-৭-এর মজুত ছাড়ার খবরে কমতে শুরু করেছে ডিজেলের দাম

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০২, ২০২৬ ইং | ২৩:৪৬:৪৩:অপরাহ্ন  |  ২৫৬০ বার পঠিত
জি-৭-এর মজুত ছাড়ার খবরে কমতে শুরু করেছে ডিজেলের দাম

রিপোর্টার্স ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে জি-৭। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রয়টার্স জানায়, জি-৭ দেশগুলো এ দিন জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল ছাড়তে সম্মত হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দাম কমানোর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

‘ইতোমধ্যে যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে আমরা আইইএর (IEA) মাধ্যমে সমন্বিতভাবে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার মাধ্যমে আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব,’ জি-৭ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে।

জি-৭ জানায়, এই প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে এবং চার মাস চলবে। জি-৭ সদস্য ও অংশীদার দেশগুলো প্রথম ২০ দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল ছাড়বে।

তবে কত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, ডিজেল ও অন্যান্য পণ্য ছাড়া হবে, তার কোনো বিস্তারিত হিসাব দেয়া হয়নি। কোন কোন দেশ এতে অংশ নেবে, তাও জানানো হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ডিজেল ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমরা আইইএর (IEA) আওতায় বৈঠক করব।’

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইউরোপ এইমাত্র তাদের বিপুল মজুত থাকা ডিজেল তেলের বড় একটি অংশ ছাড়তে সম্মত হয়েছে। প্রক্রিয়াটি তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে।’

নভেম্বরের ৩ তারিখের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা করছেন।

বৃহস্পতিবার তিনজন আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন জার্মানি ও ফ্রান্সকে জরুরি ডিজেল মজুত কমাতে বলেছিল। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানির ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে বলে তাদের সতর্ক করা হয়।

জি-৭-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো পরস্পরের মধ্যে জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বিরত থাকবে।

এনার্জি অ্যাসপেক্টসের বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেছেন, এটি একটি রাজনৈতিক বিবৃতি, নির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক কোনো অঙ্গীকার নয়। বিবৃতিতে বড় অঙ্কের যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করতে রাজি করানো।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এ বছর ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল আমদানি বাড়িয়েছে।

শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সরকারগুলো ফ্রান্সের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। প্রস্তাবটিতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলোকে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছাড়া হলে তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মোট জরুরি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশের সমান হবে। এটি ইইউর এক বছরের মোট ডিজেল ব্যবহারের প্রায় ৩ শতাংশ।

এ দিকে মজুত থেকে তেল ছাড়ার আলোচনা নিয়ে খবর প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল ফিউচারসের দাম কমেছে। প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে ৪.৪৪৯১ ডলারে নেমেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডিজেল ফিউচারসের দাম প্রতি মেট্রিক টনে ৯০ ডলারের বেশি কমেছে।

৩২ সদস্যের আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সমন্বয়ে মার্চে যে মজুত থেকে তেল ছাড়া হয়েছিল, সেখানে কৌশলগত মজুতের ৪০ কোটি ব্যারেল অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল এ সপ্তাহে বলেছেন, সদস্য দেশগুলো ওই মজুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে বাজারে ছেড়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪