আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি: ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ে বড়সড় পতনের চিত্র সামনে এসেছে। শুক্রবার প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় ১৮.৩ বিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৭৪৭.৬ বিলিয়ন ডলারে, যা সাপ্তাহিক পতনের নিরিখে এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ রেকর্ড। এর ঠিক আগের সপ্তাহেও (১৮ সেপ্টেম্বর) সঞ্চয় ১৪.৮৮ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়ে ৭৬৫.৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মাঝে পর পর দুই সপ্তাহে এই টানা পতন দেশের অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ের এই ঐতিহাসিক পতনের পেছনে প্রধান কারণ হলো ‘ফরেন কারেন্সি অ্যাসেটস’ বা বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদের উল্লেখযোগ্য হ্রাস। পর্যালোচিত সপ্তাহে এই সম্পদের পরিমাণ ১৫.৬ বিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৬১৫.৪ বিলিয়ন ডলারে।
উল্লেখ্য, ডলারের মূল্যে প্রকাশিত এই সম্পদে ইউরো, পাউন্ড ও ইয়েনের মতো অ-মার্কিন মুদ্রার দরবৃদ্ধি বা দরপতনের প্রভাব অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর পাশাপাশি স্বর্ণ সঞ্চয়ের পরিমাণও ২.৬ বিলিয়ন ডলার কমে ১০৮.৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস ৯৭ মিলিয়ন ডলার কমে ১৮.৬ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফ-এ ভারতের রিজার্ভ পজিশন ৮৬ মিলিয়ন ডলার কমে ৪.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অপরিশোধিত খনিজ তেলের চড়া দাম এবং মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড বৃদ্ধির কারণে ভারতীয় টাকার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। রূপির ধারাবাহিক পতন সামাল দিতে রিজার্ভ ব্যাংক খোলা বাজারে ডলার বিক্রির মাধ্যমে হস্তক্ষেপ শুরু করায় এই বৈদেশিক সঞ্চয়ে টান পড়েছে। বর্তমানে রূপি এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল পারফর্ম করা মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় ইরান কেন্দ্রিক ভূ-রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘায়িত হলে এবং ক্রুড অয়েলের দাম বাড়তে থাকলে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর ১০০ বা তারও বেশি নিচে নেমে যেতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব