| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দুদকের মামলা

সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ানের বিচার ঝুলে আছে ১৯ বছর

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ইং | ১০:৫২:১৭:পূর্বাহ্ন  |  ১০৯০ বার পঠিত
সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ানের বিচার ঝুলে আছে ১৯ বছর

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় প্রায় ১৯ বছরেও শেষ হয়নি সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমেদ ও তার স্ত্রী মমতাজ আহমেদের বিচার। ২০০৭ সালে দায়ের করা এ মামলায় তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৭ জুলাই অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। অভিযোগপত্রে তাদের বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৫ লাখ ২৪ হাজার ৫১১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ৯ লাখ ৭৯ হাজার ১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। অথচ দুর্নীতির মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনে ৬০ কার্যদিবসের বিধান থাকলেও প্রায় দুই দশকেও মামলাটির বিচার শেষ হয়নি।

শুধু রেদোয়ান আহমেদের মামলাই নয়, দুদকের আরও অনেক মামলা বছরের পর বছর ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত এক সিনিয়র সহকারী সচিবের স্ত্রী গুলনাহার বেগমের বিরুদ্ধে করা একটি দুর্নীতির মামলাও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ফলে দুর্নীতির মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইন ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দুদকের মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে ১৯৫৮ সালের ‘দ্য ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ অনুযায়ী বিশেষ জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই আইনের ৬(ক) ধারা অনুযায়ী, দুর্নীতির মামলা আমলে নেওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার কথা। এ ছাড়া ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর দুদকের মামলার বিচারে ৬০ দিনের সময়সীমা অনুসরণের নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু আইনের বিধান ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও রেদোয়ান আহমেদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি।

রেদোয়ান আহমেদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ বিচারাধীন। মামলার অভিযোগপত্রে ৩৫ জন সাক্ষীর নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার রবিউল আলম।

মামলাটির বিচার দীর্ঘদিন ধরে শেষ না হওয়ার পেছনে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই এবং বিচারিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি সামনে এসেছে। মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন রেদোয়ান আহমেদ। ওই আবেদনের পর মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত ছিল। পরে ২০২২ সালের ৯ মার্চ হাইকোর্ট রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে এক বছরের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেন আদালত।

তবে হাইকোর্টের ওই নির্দেশনার পরও সাড়ে চার বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো মামলাটির বিচার শেষ করা সম্ভব হয়নি।

মামলাটির বিচার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হওয়ার বিষয়ে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহ মো. নাজমুজ সাকিব বলেন, ‘আমি গত বছর নিয়োগ পেয়েছি। আমাদের কোর্টে দীর্ঘদিন বিচারকও ছিলেন না। তবে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ প্রায় শেষের দিকে। সাক্ষীরা হাজির হচ্ছেন। আশা করছি, মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ হবে।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষের দিকে রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিচারাধীন থাকার কারণে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর রমনা থানায় রেদোয়ান আহমেদ ও তার স্ত্রী মমতাজ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে দুদক। মামলার শুরুতে তাদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩০ লাখ ৯৭ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৮ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।

তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৭ জুলাই অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ। তদন্তে বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, গাড়ি, ব্যবসা এবং আয়কর নথিতে দেখানো অর্থের উৎস নিয়ে অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, রেদোয়ান আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তিনটি বাড়ির ভবন নির্মাণ, কাঠামো ও সাজসরঞ্জামের মূল্য বাবদ ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ টাকা উল্লেখ করেন। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তরের পরিমাপ অনুযায়ী, ওই তিনটি ভবনের প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় দাঁড়ায় ১ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৫ টাকা। অর্থাৎ ভবনগুলোর নির্মাণ ব্যয়ে ৭৪ লাখ ৯১ হাজার ৭৯৪ টাকার পার্থক্য পাওয়া যায়। দুদকের অভিযোগ, এই পরিমাণ সম্পদের মূল্য গোপন করে সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া সম্পদ বিবরণীতে দুটি গাড়ির কথা উল্লেখ করা হলেও আরও দুটি গাড়ি কেনার তথ্য গোপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়। দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, ওই দুটি গাড়ি কিনতে ব্যয় হয়েছিল ২৪ লাখ ৮৭ হাজার ২১৭ টাকা।

জিজ্ঞাসাবাদে রেদোয়ান আহমেদ দুদককে জানান, সম্পদ বিবরণী দাখিলের আগেই গাড়ি দুটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। তবে দুদকের বক্তব্য, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) রেকর্ড অনুযায়ী গাড়ি দুটির মালিকানা তখনো তাদের নামেই ছিল।

এ ছাড়া রেদোয়ান আহমেদের নামে আরও একটি গাড়ির সন্ধান পাওয়ার কথা জানায় দুদক। ওই গাড়িটি ২০০৬ সালে দুষ্কৃতকারীরা পুড়িয়ে ফেলেছিল বলে তিনি কমিশনকে জানিয়েছিলেন।

দুদকের তদন্তে কুমিল্লার চান্দিনা পৌর মার্কেটে রেদোয়ান আহমেদের পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা পাঁচটি দোকানের তথ্যও উঠে আসে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, দোকানগুলোর মূল্য ছিল ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু সম্পদ বিবরণীতে এসব দোকানের তথ্য গোপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করে দুদক।

অন্যদিকে, রেদোয়ান আহমেদের স্ত্রী মমতাজ আহমেদের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার তথ্যও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। দুদকের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০২ সালের ৩ জুলাই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করে দেড় লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা মূল্যের ওই প্লট বরাদ্দ নেওয়া হলেও সম্পদ বিবরণীতে এর তথ্য গোপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ আনে কমিশন।

অভিযোগপত্রে রেদোয়ান আহমেদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে সুলতান মঈন আহমেদের নামে আয়কর নথি খোলার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

দুদকের অভিযোগ, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থকে বৈধ দেখানোর উদ্দেশ্যে ছেলের নামে আয়কর নথি খোলা হয়েছিল। এরপর ১৯৯১-৯২ করবর্ষের আয়কর নথিতে ৪৫ জন আত্মীয়স্বজনের নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে হলফনামার মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা দান করা হয়েছে বলে দেখানো হয়।

পরবর্তী সময়ে ওই আয়কর নথির মাধ্যমে রেদোয়ান আহমেদ ও তার স্ত্রীর নামে ২ কোটি টাকা দান এবং ২০ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেখানোর অভিযোগও আনা হয়।

দুদকের অভিযোগপত্রে এসব দান ও ঋণের তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়। কমিশনের বক্তব্য ছিল, অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি ছেলের নামে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিকানা দেখানো এবং আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে এত বড় অঙ্কের অর্থ দান ও ঋণ পাওয়ার দাবির পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

রেদোয়ান আহমেদের সম্পদ বিবরণীতে মৎস্য খাত থেকে ৮২ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা আয় দেখানোর বিষয়টিও তদন্ত করে দুদক।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, তার মালিকানাধীন জমিতে ১২টি পুকুর পাওয়া গেলেও সেখানে কোনো মৎস্য খামার কিংবা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে মাছ চাষের আলামত পাওয়া যায়নি। দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, পুকুরগুলোতে সনাতন পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে বছরে তিন থেকে চার লাখ টাকার মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে।

এ অবস্থায় সম্পদ বিবরণীতে মৎস্য খাত থেকে দেখানো বিপুল পরিমাণ আয়ের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ করে কমিশন।

সব দিক বিবেচনায় নিয়ে দুদক রেদোয়ান আহমেদ ও তার স্ত্রী মমতাজ আহমেদের বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৫ লাখ ২৪ হাজার ৫১১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ৯ লাখ ৭৯ হাজার ১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানায়।

এর ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিচার এখনো শেষ হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে আদালতের রায়ের মাধ্যমে।

রেদোয়ান আহমেদের রাজনৈতিক জীবনেও রয়েছে দীর্ঘ পথচলা। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০০৬ সালে বিএনপি ছেড়ে অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) যোগ দেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধাদের ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা আরেকটি মামলায় ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রেদোয়ান আহমেদকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালত।

এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এলডিপির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন রেদোয়ান আহমেদ। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে ফিরে আসেন তিনি। কুমিল্লা-৭ আসনে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।

এভাবে বিচারাধীন দুর্নীতির মামলা থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দীর্ঘদিনের মামলাটির বিচার এখনো চলমান।

দুদকের মামলার দীর্ঘসূত্রতার আরেকটি উদাহরণ গুলনাহার বেগমের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতির মামলা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত এক সিনিয়র সহকারী সচিবের স্ত্রী এবং পেশায় গৃহিণী।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, গুলনাহার বেগমের নামে ১ কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার ২৮৮ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। তিনি এসব অর্থের উৎস হিসেবে স্বামীর বেতন, কৃষি খাত থেকে সঞ্চয়, পোলট্রি খামারের আয় এবং ছেলের কাছ থেকে বিদেশি মুদ্রায় পাওয়া অর্থের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি বলে অভিযোগ করে দুদক।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর রাজধানীর রমনা থানায় দুদকের উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এরপর ২৮ নভেম্বর আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নেন। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন মামলা করেন আসামিপক্ষ। অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আসামিপক্ষ তিনবার সময় নেয়। পরে ২০১৮ সালের ৫ মার্চ গুলনাহার বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

আদালতের আদেশে বলা হয়, রিভিশন মামলার শুনানি কবে শেষ হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। এ ছাড়া ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ৬ক(১) ও ৬ক(২) ধারা অনুযায়ী, দুর্নীতির মামলা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষীদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও সেদিন সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। এরপর উচ্চ আদালতের লিভ টু আপিলের আদেশ দাখিলের কথা বলে বারবার সময় পেছানো হয়।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ মামলাটির তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু লিভ টু আপিলের আদেশ দাখিল না হওয়ায় ওই দিনও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। পরে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

ফলে রেদোয়ান আহমেদের মামলার মতো গুলনাহার বেগমের মামলাতেও আইনে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

দুর্নীতির মামলা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে না পারার বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এটা খুব বাস্তবসম্মত বিধান নয়। তবে এটা আদর্শ, প্রত্যাশার জায়গা থেকে ঠিক আছে। দুর্নীতির মামলা আমাদের মতো পৃথিবীর সব দেশেই জটিল। এ ছাড়া আমাদের বিচারিক প্রক্রিয়াতেও দুর্বলতা আছে। দুদকের কাজ মামলা কোর্ট পর্যন্ত বিচারের জন্য নিয়ে যাওয়া। এরপর সেটা আদালতের ওপর নির্ভর করে। আমাদের দেশে মামলার তুলনায় বিশেষ আদালত নেই। যে আদালতগুলো আছে সেখানে গতিশীলতার ঘাটতি আছে। মামলাগুলো যেন দ্রুত শেষ হয় সেটাই প্রত্যাশা।’

তার বক্তব্যে দুর্নীতির মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মামলার জট, বিশেষ আদালতের স্বল্পতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

দুদক তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নির্ভর করে আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের ওপর। রেদোয়ান আহমেদ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রায় দুই দশক ধরে বিচারাধীন থাকা মামলাটি কবে নিষ্পত্তির মুখ দেখে।

আইনে ৬০ দিনের মধ্যে দুর্নীতির মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে বছরের পর বছর ধরে মামলা ঝুলে থাকার ঘটনা বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সম্পাদনা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নোট: প্রকাশের আগে মূল তথ্যসূত্রের সঙ্গে কয়েকটি তারিখ যাচাই করে নেবেন। বিশেষ করে গুলনাহার বেগমের মামলার ক্ষেত্রে মূল লেখায় মামলা দায়েরের তারিখ ২০২৬ সালের ৯ নভেম্বর বলা হয়েছে, যা বর্তমান তারিখ ১০ অক্টোবর ২০২৬ অনুযায়ী ভবিষ্যতের তারিখ। একই অনুচ্ছেদে ২০১৭ সালের অভিযোগপত্রের কথা রয়েছে।

এ ছাড়া রেদোয়ান আহমেদের মামলার ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের ৭ জুলাই অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০২২ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং ‘সাড়ে চার বছর’ সময়ের হিসাবও পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করে নেবেন।

 

রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪