| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় নুনুজ বাজার

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ইং | ২১:৪৪:৫৫:অপরাহ্ন  |  ৩৬৪ বার পঠিত
সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় নুনুজ বাজার

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা ঐতিহ্যবাহী ধান ব্যবসায়ের স্বনামধন্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত 'নুনুজ বাজার'। পরিধিতে ছোট হলেও শস্যনির্ভর এ হাটটি থেকে প্রতি বছর সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় হয়। তবে রাজস্ব আয়ে সমৃদ্ধ হলেও অবকাঠামোগত অবহেলা আর চরম দুর্ভোগের শিকার এখানে আসা হাজার হাজার মানুষ। হাটে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই প্রধান সড়কের তিনমাথা মোড়ে সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাঁচাবাজারে প্রবেশের উপযুক্ত রাস্তার অভাব ও হাটের ভেতরের জায়গা সংকট । ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও যানবাহন চালকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি নামলেই নুনুজ বাজারের অত্যন্ত ব্যস্ততম তিনমাথা মোড়টি ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়। পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় খানাখন্দে পানি জমে তৈরি হয় কৃত্রিম কাদা-জল। বছরের তিনটি মৌসুমে এ হাট থেকে হাজার হাজার টন ধান ও আলু লোড নিয়ে ভারী ট্রাক ও পরিবহন চলাচল করে। এ ছাড়া প্রতিদিন ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেল অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এই কাদা-পানির ডোবা পার হতে হয়। এতে ঘটে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

সপ্তাহের রবি ও বুধবার বসে নুনুজ হাটের মূল হাটবার। হাটে প্রবেশের সুনির্দিষ্ট কোনো রাস্তা না থাকায় ব্যবসায়ীদের খুব কষ্ট করে মালামাল ভেতরে নিতে হয়। এছাড়া হাটের অভ্যন্তরে জায়গা অপ্রতুল হওয়ায় বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বসার সুযোগ পাচ্ছেন না।

হাটের জায়গায় বসার সুযোগ না পেয়ে অন্যর জায়গায় বসেছি বলে জানিয়েছেন বাশিলাপাড়া গ্রাম থেকে নুনুজ হাটে জালি কুমড়া বিক্রি করতে আসা জামিরুল ইসলাম। 

ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে মোড়টির এমন বেহাল দশা থাকলেও স্থায়ী কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেই।  এ হাটে প্রচুর জনসমাগম ধান ও আলু আমদানি ছিলো। হাটের সকল সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। 

মালামাল পরিবহনে যুক্ত ভুক্তভোগী ট্রাক চালক জামাল জানান, সারা বছরে আমি নুনুজ বাজার থেকে অন্তত ২৫০ বস্তার শতাধিকেরও বেশি ট্রাক ধান লোড করে নিয়ে যাই। এই তিনমাথা মোড়টি বর্তমানে এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে গাড়ি পার করার সময় প্রতি পদে পদে দুর্ঘটনার ভয় থাকে। কয়েকবার বড় ধরনের বিপদেও পড়েছিলাম। 

হাটের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তরকারি ও মসলা ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলী ও কাশেম বলেন, বাজারে ঢোকার কোনো সুস্থ পরিবেশ নেই। রাস্তা না থাকায় হাটের ভেতরে মালামাল নেওয়া মহা কষ্টের। জায়গা না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ী এই বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। সরকার আমাদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করলেও সুযোগ-সুবিধার দিকে কোনো নজর নেই।

নুনুজ হাটের ইজারাদার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জন্য আমি ১৮ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে এই হাট ইজারা নিয়েছি। কিন্তু ড্রেন, কসাইখানা এবং কাঁচা বাজারে ঢোকার সুব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন ক্রেতা ও বিক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এতে প্রতি হাটবারে আমাকে বিপুল লোকসানের বোঝা বহন করতে হচ্ছে। অবিলম্বে হাটটির অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছি।

সমস্যা ও দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, নুনুজ হাটের বিদ্যমান সমস্যার বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। দ্রুতই হাটের জায়গা সম্প্রসারণ (এক্সটেনশন) করা হবে। ড্রেনেজ ও রাস্তাসহ অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪