| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পিছিয়ে বিশ্ব, উষ্ণতা বাড়াতে বড় ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ইং | ২০:৫৩:০৯:অপরাহ্ন  |  ৯৪৭ বার পঠিত
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পিছিয়ে বিশ্ব, উষ্ণতা বাড়াতে বড় ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের

আমিনুর ইসলাম: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব আরও পিছিয়ে পড়ছে। দেশগুলো গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ প্রাক্‌-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যেতে পারে। আর বর্তমান নীতি ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এই বৃদ্ধি ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। 

জাতিসংঘের নতুন এক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির (ইউএনইপি) হালনাগাদ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, গত বছরের পূর্বাভাসের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের আশঙ্কা বেড়েছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে যাওয়া, দেশটির কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি এবং অতীতের নিঃসরণসংক্রান্ত হিসাব সংশোধনের ভূমিকা রয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের যেসব দেশে কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে, সেগুলোর সম্মিলিত নিঃসরণ বৃদ্ধির প্রায় ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র। ওই বছর দেশটির নিঃসরণ বেড়েছে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য ১৩ কোটি ৩০ লাখ টন। এ বৃদ্ধির পেছনে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন আবার বেড়ে যাওয়ার ভূমিকা ছিল।

বিশ্বের শীর্ষ ২০ অর্থনীতির অন্য দেশগুলো হয় কার্বন নিঃসরণ কমিয়েছে, নয়তো নিঃসরণ বৃদ্ধির গতি কমিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে নিঃসরণ বেড়েছে এমন ১২৪টি দেশ থেকে অতিরিক্ত ১৮ কোটি ৯০ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য গ্রিনহাউস গ্যাস বায়ুমণ্ডলে যুক্ত হয়েছে।

প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে :  ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক্‌-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক নিচে রাখা এবং সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন পূর্বাভাস বলছে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেও বিশ্ব সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থাকবে।

বর্তমানে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রাক্‌-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখার মূল লক্ষ্য অর্জন এখন আর বাস্তবসম্মত নয়। বরং উষ্ণতা সাময়িকভাবে প্রায় ১.৮ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়লেও পরে বায়ুমণ্ডল থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করে তা কমিয়ে আনার সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এ ধরনের কার্বন অপসারণের প্রযুক্তি ও সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে বিপজ্জনকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বদলানোর মতো প্রযুক্তি ও উপায় এখনো রয়েছে।

নিঃসরণ কমাতে জরুরি পদক্ষেপের তাগিদ : ইউএনইপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি সীমিত রাখতে হলে ২০২৫ সালের মাত্রার তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ১৮ শতাংশ, ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৬৯ শতাংশ কমাতে হবে।

কিন্তু দেশগুলোর বর্তমান জাতীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে নিঃসরণ কমার সম্ভাবনা মাত্র ৫ থেকে ৮ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই হ্রাস ১১ থেকে ১৫ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে যে পরিমাণ নিঃসরণ কমানো প্রয়োজন, তার তুলনায় দেশগুলোর পরিকল্পনা অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও ইউএনইপির কোপেনহেগেন জলবায়ু কেন্দ্রের পরিচালক অ্যান ওলহফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তনের কারণে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে আরও প্রায় ০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস যুক্ত হতে পারে।

জলবায়ু বিশ্লেষণ সংস্থা ক্লাইমেট অ্যানালিটিকসের প্রধান বিল হেয়ার বলেছেন, অতিরিক্ত এই উষ্ণতা আরও প্রায় ১৪ কোটি মানুষকে বিপজ্জনক মাত্রার তাপপ্রবাহের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এতে আমাজন বন এবং গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফস্তরের স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়বে।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিজ্ঞানী মাইকেল মানের হিসাব অনুযায়ী, তাপমাত্রার এই অতিরিক্ত বৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অগ্রগতি, তবু যথেষ্ট নয় : বিশ্বের অনেক দেশে সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের জলবায়ুনীতি কার্বন নিঃসরণ কমাতেও ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এসব অগ্রগতি সত্ত্বেও সামগ্রিক নিঃসরণ কমানোর গতি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, দেরিতে পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতে উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ আরও ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে উঠবে। তাপপ্রবাহ, বিধ্বংসী বন্যা, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং মানুষের মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে আফ্রিকাসহ জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নিঃসরণ কমানোর ধীরগতি এবং দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ঘাটতি বিশ্বকে আরও উষ্ণ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪