| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঝিনুক হত্যা: অনৈতিক কাজের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে খুন, পিবিআইয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০১, ২০২৬ ইং | ১৫:৩৬:৫৮:অপরাহ্ন  |  ৩৫৪ বার পঠিত
ঝিনুক হত্যা: অনৈতিক কাজের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে খুন, পিবিআইয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদীতে সেতুর নিচ থেকে প্লাস্টিকের ড্রামে ভর্তি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত নারীর নাম ঝিনুক আক্তার (২৬)। অনৈতিক কাজের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও অপরাধ আড়াল করতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে নিয়ে ড্রামে ভরে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কক্ষে ঝিনুককে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়। পরে পারিশ্রমিকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গোপন করার পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাত একটি গাড়িতে করে শেরপুরের শ্রীবরদীতে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

গত ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীবরদী থানা পুলিশ খবর পায়, কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে একটি বড় নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ড্রামটি উদ্ধার করে খুললে ভেতরে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ পাওয়া যায়। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।

পরে পিবিআই শেরপুরের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও তদন্তের মাধ্যমে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করে। তার নাম ঝিনুক আক্তার (২৬)। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার এরশাদনগরের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. শাকিল মিয়া।

এ ঘটনায় নিহতের ফুফু মোছা. শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে ঝিনুকের স্বামী মো. সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে শ্রীবরদী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ২৩ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১০। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার পর পিবিআই শেরপুর ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তী সময়ে সংস্থাটি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআইয়ের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল, বিপিএম-সেবা-এর তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই শেরপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দিঘলগ্রামের নুর ইসলাম বাবু (৪৪), জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাঘমারা শিশুয়া গ্রামের মো. সজল (৪৪), শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা গ্রামের নুর মোহাম্মদ গোসা (৪৪) এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা গ্রামের মাহবুবা আক্তার ফাতেমা (৪৪)।

পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামিদের দেওয়া জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায়, নিহত ঝিনুক আক্তার গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি পার্লারে কাজ করতেন। গত ২১ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি গ্রেপ্তার আসামি মো. সজল ও নুর ইসলাম বাবুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। পরে ঢাকার উত্তরখান এলাকার কবিরশাহ মাজারে যান তিনি।

সেখান থেকে মাহবুবা আক্তার ফাতেমা ও নুর মোহাম্মদ গোসা তাকে সজল ও নুর ইসলাম বাবুর সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণখান থানার মৌশাইর এলাকার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে মাল্টি গার্মেন্টসের পূর্ব পাশে আ. সাত্তারের নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার দক্ষিণ পাশের একটি ভাড়াটিয়া কক্ষে নিয়ে যান। কক্ষটি জুয়েল নামের এক ব্যক্তির বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কক্ষে প্রায় ১০ থেকে ১২ জনের সঙ্গে ঝিনুককে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়। রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঝিনুক সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে মাহবুবা আক্তার ফাতেমা তাকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেন। কিন্তু ঝিনুক ওই পরিমাণ টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আরও বেশি অর্থ দাবি করেন। এ নিয়ে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে ফাতেমা তাকে থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে ঝিনুকও ফাতেমাকে আঘাত করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফাতেমা ঘরে থাকা বটি দিয়ে ঝিনুককে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এতে ঝিনুক মেঝেতে পড়ে গেলে অন্য আসামিরা তার হাত-পা চেপে ধরেন। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

হত্যার পর লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঝিনুকের মরদেহ একটি বড় প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাত একটি গাড়িতে করে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে ফেলে দেওয়া হয়। ঢাকা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে লাশ ফেলে অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তদন্তের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় পিবিআই।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নুর ইসলাম বাবু ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার জানান, এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল। অনৈতিক কাজের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই পিবিআই শেরপুরের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তারা।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, অপরাধীরা যতই চেষ্টা করুক না কেন, অপরাধ কখনো চাপা থাকে না।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪