| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে আদালতে পরীমণি

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৫, ২০২৬ ইং | ১১:৩৪:২৬:পূর্বাহ্ন  |  ১৪১৬ বার পঠিত
আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে আদালতে পরীমণি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে হাজির হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকার আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করতে উপস্থিত হন তিনি।

পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার এ মামলায় পরীমণির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পরীমণি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন।

আইনজীবী আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরীমণি আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন। আদালত তার জামিন মঞ্জুর করবেন বলে তারা আশা করছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। নির্ধারিত দিনে বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমণির পক্ষের আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।

পরে বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমণির জামিন বাতিল করেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেওয়া হয়। এর পরদিনই আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ ও জামিনের উদ্যোগ নেন এই চিত্রনায়িকা।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমণিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিনও পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।

এর আগে মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন প্রতিবেদনে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তবে মামলার আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৫ জুন তারা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনায় পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ আনেন ক্লাবটির তৎকালীন সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ।

২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ।

মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

মামলার এজাহারে নাসির উদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ করেন, পরীমণি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল পান করতে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে যেতেন। সেখানে অ্যালকোহল পান ও পার্সেল নেওয়ার পর মূল্য পরিশোধ করতেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও আনা হয় এজাহারে।

এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমণি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।

নাসির উদ্দিনের অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনি ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমণি তাকে উদ্দেশ্য করে ডাক দেন এবং তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসার অনুরোধ করেন।

একপর্যায়ে পরীমণি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন নাসির। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাকে গালমন্দ করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি একটি সার্ভিং গ্লাস নাসির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন। পাশাপাশি হাতে থাকা মোবাইল ফোনও তার দিকে নিক্ষেপ করেন। এতে নাসিরের মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া পরীমণি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তাকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ আনেন নাসির উদ্দিন।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, বোট ক্লাবের ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরীমণি সাভার থানায় বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

এদিকে, নাসির উদ্দিনের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর বৃহস্পতিবার আদালতে পরীমণির আত্মসমর্পণ ও জামিন আবেদনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আদালত তার জামিনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দেন, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪