| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে হৃদয়ের ইতিহাস, ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৭, ২০২৬ ইং | ১২:৩০:১৪:অপরাহ্ন  |  ১১৬৮৯ বার পঠিত
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে হৃদয়ের ইতিহাস, ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি

স্পোর্টস ডেস্ক: একের পর এক সতীর্থের বিদায়, উইকেটের পতনে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়—চারদিকে যখন হতাশার চিত্র, তখন একাই বুক চিতিয়ে লড়লেন তাওহীদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই তরুণ ব্যাটার। তাঁর দুর্দান্ত শতকে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েও দুইশ রানের গণ্ডি পার করেছে বাংলাদেশ।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে সাড়ে তিনশ রানের ইনিংস খেলে আলোচনায় আসেন হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাঁর সেই অবিশ্বাস্য ইনিংসের পর আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটেও তাঁকে সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এবার জাতীয় দলের হয়ে নিজের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চেও নিজেকে মেলে ধরার সামর্থ্য রয়েছে তাঁর।

মিরপুর টেস্টে হারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিরিজে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সিলেটে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ের চিত্রে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে যখন দল বিপর্যস্ত, তখন এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়। তাঁর সেঞ্চুরির সুবাদেই দলীয় সংগ্রহ দুইশ ছাড়িয়েছে।

১৭১তম বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান হৃদয়। শতরান পূর্ণ করার পর হেলমেট খুলে ব্যাটের হাতলে রেখে উদযাপন করেন নিজের ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্তটি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে তিনি ১৭১ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ১০০ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

তবে হৃদয়ের এই সেঞ্চুরি বাংলাদেশের জন্য এখন পর্যন্ত বড়জোর সান্ত্বনা। কারণ, দলের বাকি ব্যাটাররা তাঁকে যথাযথ সঙ্গ দিতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে হৃদয়ের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান মুশফিকুর রহিমের ৩৪। বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ২০৫ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তখনো ১৫১ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা।

এর আগে শনিবার সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিনের ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে স্বাগতিকরা। দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিম ও হৃদয়ের জুটি কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছিল। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় এক শটে সেই সম্ভাবনার ইতি টানেন মুশফিক।

জোমেল ওয়ারিকানের ভাসানো বলে রাউন্ড দ্য উইকেটে শট খেলতে গিয়ে শর্ট কাভারে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ৩৪ রানেই থামে তাঁর ইনিংস। ফলে হৃদয়ের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটির সমাপ্তি ঘটে।

এরপর ক্রিজে এসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন লিটন দাস। দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত ক্যারিবীয় স্পিনার ওয়ারিকানের কৌশলী বোলিংয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি। ফুল লেংথ ও অফ স্টাম্প বরাবর আসা বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। ব্রেন্ডন কিং সহজেই ক্যাচটি তালুবন্দী করেন।

এরপর হৃদয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজন মিলে ৪১ রান যোগ করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেই জুটিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকা মিরাজ রোস্টন চেজের বলে প্যাডেল সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটে-বলে ঠিকমতো সংযোগ ঘটাতে পারেননি। বল উঠে গেলে প্রথম স্লিপ থেকে দৌড়ে এসে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন জাস্টিন গ্রিভস। ১৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন মিরাজ।

এরপর মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে বিদায় নেন হাসান মাহমুদও। জোমেল ওয়ারিকানের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বলে ব্যাটের হালকা স্পর্শ লাগলে সেটি জমা পড়ে উইকেটরক্ষকের হাতে। ১৮৪ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

তবে একের পর এক উইকেট হারানোর মধ্যেও নিজের দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি হৃদয়। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলের মধ্যে এক প্রান্ত আগলে রেখে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে তাঁর সঙ্গে ক্রিজে অপরাজিত ছিলেন তাইজুল ইসলাম, যিনি তখন ১ রানে ব্যাট করছিলেন।

দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে হৃদয়ের এই শতরান বাংলাদেশের লড়াইয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই অসাধারণ ইনিংসকে কাজে লাগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে বাংলাদেশ।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪