বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোল্লাহাটে অবৈধ জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে আব্দুল্লাহ ফারুক নামে এক সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে। পুলিশকে জুয়ার আসরের তথ্য দেওয়ার সন্দেহে শুক্রবার রাতে তাঁর ওপর এ হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় তাঁকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ ফারুক প্রেসক্লাব মোল্লাহাটের সহসভাপতি এবং গ্রিন টিভি ও দৈনিক কালবেলা পত্রিকার মোল্লাহাট উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, উপজেলার গিরিশনগর দ্বীপচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জুয়ার আসর বসায়। শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই জুয়ার আসর বন্ধ করে দেয়। এ অভিযানের পেছনে সাংবাদিক ফারুকের হাত রয়েছে এবং তিনিই পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন এমন সন্দেহ থেকে জুয়াড়ি চক্রটি তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে ফারুক শেখ, কবির ও আহাদসহ ১০-১২ জন তাঁকে ডেকে নিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় তাকে।
সাংবাদিক আব্দুল্লাহ ফারুক বলেন, “জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন সন্দেহের বশে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাঁই।” এ ঘটনায় সাংবাদিক ফারুক বাদী হয়ে ফারুক শেখ, কবির ও আহাদসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মোল্লাহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ ফারুকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রেসক্লাব মোল্লাহাটের সভাপতি অধ্যক্ষ শিকদার মো. জিন্নুরাইন, সাধারণ সম্পাদক এম এম মফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহিনুর ইসলাম শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ গোলাম রসুল, প্রচার সম্পাদক এস এম মিজানুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ ইমলাক শেখ, দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক মনিরুজ্জামান, নিবার্হী সদস্য জহিরুল ইসলাম জাহিদ, মোঃ মাকসুদ আলম, মোঃ বসার মোল্লা, সাংবাদিক আল হাফিজ শেখ, লিটন শেখ, আশিকুল ইসলাম মিয়া, মোঃ তাজ উদ্দিন মিয়াসহ ক্লাবের সদস্যরা। তাঁরা হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব