আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : একটি অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় সোমবার পদত্যাগ করেছেন, স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে। ২০২২ সাল থেকে উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসা ৭৪ বছর বয়সী ধনখড় রাজ্যসভায় বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনের অধিবেশন সভাপতিত্ব করার পরই তাঁর পদত্যাগপত্র পেশ করেন।
এই পদত্যাগের মাধ্যমে জগদীপ ধনখড় স্বাধীন ভারতে সপ্তম উপরাষ্ট্রপতি হলেন যিনি পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়লেন। উপরাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ধনখড় বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে আমি ভারতীয় সংবিধানের ৬৭(ক) অনুচ্ছেদের অধীনে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করছি।”
যদিও সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ধনখড় দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ধনখড় লিখেছেন, “ভারতের রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা এবং আমাদের মধ্যে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। একইসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতিও আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা ও সহানুভূতির জন্য আমি অনেক কিছু শিখেছি।"
অপরদিকে, সোমবার রাজ্যসভার সভাপতির ভূমিকায় ধনখড় এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর কথা তোলেন। তিনি জানান, ৫০ জনের বেশি রাজ্যসভার সদস্য একটি চিঠিতে বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার অপসারণের জন্য একটি কমিটি গঠনের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি সচিবালয়কে নির্দেশ দেন, লোকসভাতেও অনুরূপ প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে।
ধনখড় বলেন, “এটি প্রক্রিয়া অনুযায়ী হচ্ছে। যদি দুই কক্ষে ভিন্ন দিনে প্রস্তাব পেশ হয়, তবে আগে যে কক্ষে প্রস্তাব আনা হয়েছে সেটিই বিবেচনায় নেওয়া হয়। যদি একই দিনে উভয় কক্ষে প্রস্তাব পেশ হয়, তাহলে পৃথক বিধান প্রযোজ্য।”
তিনি আরও জানান, বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বিরুদ্ধে প্রস্তাবে যে ৫৫ জন স্বাক্ষর করেছেন, তাঁদের মধ্যে একজনের স্বাক্ষর দ্বিগুণ পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে ধনখড় বিচার বিভাগের সমালোচনায় সরব ছিলেন। তিনি একাধিকবার দাবি করেছেন, “সংসদই সর্বোচ্চ।” সুপ্রিম কোর্ট যখন রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের রাজ্য সরকারের পাস করা বিল সই করার সময়সীমা নির্ধারণ করে, তখন ধনখড় কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “এখন আমাদের বিচারপতিরা আইন প্রণয়ন করবেন, নির্বাহী কাজ করবেন, সংসদের ওপর বসবেন এবং যেহেতু তাঁদের জবাবদিহিতা নেই, তাই দেশের আইন তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়— এমন একটা অবস্থা তৈরি হচ্ছে।”
ধনখড়ের এই আকস্মিক পদত্যাগ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তুলেছে। এখন গোটা নজর রয়েছে নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে এবং দেখা যাচ্ছে বিচারব্যবস্থা বনাম সংসদ বিতর্কে ধনখড় তাঁর পদ ছাড়ার আগে শেষ মুহূর্তেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে গেলেন।
রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ