শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌবন্দরস্থ জনতা ব্যাংকে ঢুকে ৯৬ লাখ টাকার চেক ছিনিয়ে নিয়ে ব্যাবসায়ীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার বাঘাবাড়ির জনতা ব্যাংক শাখায় রোববার (২০ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হয়। এঘটনায় উক্ত ব্যাংকের শাখা ব্যাবস্থাপক মোঃ আলমগীর হোসেন গত সোমবার (২১ জুলাই) শাহজাদপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আমির হামজা নামে এক ব্যাবসায়ী জনতা ব্যাংকের বাঘাবাড়ি শাখায় তার প্রতিবেশী ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শুকুর আলীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৯৬ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য একটি চেক জমা দেন। একই সময়ে শুকুর আলীর ভাই মফিজ উদ্দিনের ছেলেসহ ভাতিজারা ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে ব্যাংক ম্যানেজারের কাছ থেকে ওই চেকটি নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন এবং ব্যাবসায়ী আমির হামজার উপর হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ৫ জন আহত হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে শাহজাদপুর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন, উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন ও তার দুই ছেলে সেলিম রেজা এবং শিহাব উদ্দিন। অপরপক্ষে আহত হয়েছেন আমির হামজা ও তার ছেলে মাহমুদুল হাসান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ জানান, “হাসপাতালে আসা আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা চলে যান।
হামলার শিকার ব্যবসায়ী আমির হামজা বলেন, “ব্যবসায়িক কারণে শুকুর আলীর কাছে আমার ৯৬ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সে আমাকে ওই টাকার চেক দেন। ১০ জুলাই আমি তা ব্যাংকে জমা দিই। রবিবার ডিজঅনার করার কথা জানানো হলে আমি এবং আমার ছেলে ব্যাংকে যাই। তখন মফিজ উদ্দিন ও তার লোকজন আমাদের উপর হামলা চালায় এবং চেকটি ছিনিয়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলে।
এদিকে, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উক্ত জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, মেসার্স আমির হামজা ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটর ৯৬ লাখ টাকার একটি চেক উপস্থাপন করেন। চেক উপস্থাপন করার সময় ওই একাউন্টে টাকা না থাকায় একাউন্ট হোল্ডার শুকুর আলীকে জানালে তিনি ১০ দিনের সময় নেন। চেয়ে নেওয়া সময়ে একাউন্টে টাকা না দেওয়ায় রবিবার চেক ডিজঅনারের সকল কাজ সম্পূর্ণ করা হয়। ডিজঅনার করা চেকটি একটি ছেলে এসে অতর্কিতভাবে কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষযে শুকুর আলীর সাথে বারংবার যোগযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার ওসি মোঃ আছলাম আলী জানান, চেক ডিজঅনার করা নিয়ে ব্যাংকের ভিতরে সংঘর্ষের ঘটনায় উক্ত ব্যাংকের ম্যানেজার শাহজাদপুর থানায় জিডি করেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন