স্টাফ রিপোর্টার: বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলায় সাজা ভোগ করা অবস্থায় ২০২০ সালে বিশেষ বিবেচনায় কারাগার থেকে মুক্তি পান মো. মুশফিক উদ্দীন টগর। কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি আবার অস্ত্র কারবারে জড়িয়ে পড়েন।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর আজিমপুর থেকে টগরকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় তার কাছ থেকে ৩২ মিলিমিটারের একটি রিভলবার, একটি ম্যাগাজিন, একটি কাঠের পিস্তলের গ্রিপ, ১৫৫ রাউন্ড (২২ রাইফেল) গুলি, একটি ৭.৬২ মিলিমিটারের মিসফায়ার গুলি, একটি শটগানের খালি কার্তুজ, দুটি মুখোশ ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার টগর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সরবরাহ করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চলমান থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ফায়েজুল আরেফীন বলেন, সনি হত্যা মামলায় টগর ২০০২ সালে ২৪ জুন গ্রেপ্তার হন টগর। পরে ২০২০ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন সরকারের বিশেষ বিবেচনায় কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। মূলত আমরা অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে তার পরিচয় পাই। তখন জানতে পারি তিনি বুয়েট শিক্ষার্থী সনি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি।
উদ্ধার হওয়া মুখোশের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে এসব মুখোশ ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতেন কি না, সেটা তদন্তে জানা যাবে।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ৮ জুন বুয়েট ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের তৎকালীন ছাত্রদল নেতা মুশফিক উদ্দিন টগর গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নিহত হন সনি। দরপত্র নিয়ে ওই সংঘর্ষ হয়। বুয়েটের কেমিপ্রকৌশল বিভাগের ১৯৯৯ ব্যাচের ছাত্রী সাবেকুন নাহার সনি সেদিন ক্লাস শেষে বুয়েটের হলে ফিরছিলেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে তার নিহত হওয়ার পর সারা দেশে আন্দোলন হয়। সেসময় সনি হত্যাকান্ড ছিলো দেশের প্রধান আলোচনায়।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব