স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর ধানমন্ডি ও ডেমরায় পৃথক ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ধানমন্ডিতে একটি বাসার পাশ থেকে আল মোকাব্বর অর্ণব ইসলাম (৩৩) নামে এক কলেজ পরিচালককে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর ডেমরায় উল্টো পথে আসা ট্রাকের চাপায় মাশরাফি মুস্তাকিম আলিফ (২৫) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২ মে) দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি ১১ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ির পাশ থেকে অর্ণবের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজিব জানান, ৩১ নম্বর বাড়িটির ২বি ফ্ল্যাটে বাবার সঙ্গে থাকতেন অর্ণব। তার মা অন্যত্র থাকেন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং যাত্রাবাড়ীর রফিকুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজটি পরিচালনা করতেন।
এসআই রাজিব আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, অর্ণব মাঝেমধ্যে ১২তলা ভবনটির ছাদে উঠতেন। শনিবার দুপুরেও তিনি ছাদে উঠেছিলেন। কিছুক্ষণ পরই তিনি নিচে পড়ে যান। পরে দুই ভবনের মাঝখান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েছেন নাকি দুর্ঘটনাবশত পড়ে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডেমরা রোডের দেল্লা ও পাইটি এলাকার মাঝামাঝি স্থানে উল্টো পথে আসা একটি ট্রাকের চাপায় মাশরাফি মুস্তাকিম আলিফ নিহত হন। তিনি সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সিএনজি অটোরিকশাচালক রাশেদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে ভিড় দেখে এগিয়ে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, একটি ট্রাক মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়েছে। পরে স্থানীয়রা ও পুলিশ আহত অবস্থায় মোটরসাইকেলচালককে তার অটোরিকশায় তুলে দেন। তিনি তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ডেমরা থানার এসআই মো. রুবেল হাওলাদার জানান, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে একটি ট্রাক উল্টো পথে যাচ্ছিল। দেল্লা ও পাইটি এলাকার মাঝামাঝি স্থানে ট্রাকটি একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলচালক ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে যায়।
রাতে ঢামেকে গিয়ে নিহত আলিফের মামা আলাউদ্দিন জনি তার লাশ শনাক্ত করেন। তিনি জানান, আলিফ যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় থাকতেন। তার বাবার নাম জুয়েল দেওয়ান। তিনি সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়তেন এবং পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরি করতেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আলিফ ছিলেন বড়।
তিনি বলেন, রাতে ঢাকা মেডিকেল থেকে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে ভাগিনার লাশ শনাক্ত করেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি