আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : অবিরাম বৃষ্টির কারণে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলায় একাধিক ভূমিধসে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মিরিকে, সুখিয়ায় মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের।সংখ্যাটা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাস ছিলই। সেই মতো গত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টি হয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার-সহ উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলায়। বৃষ্টির পরিমাণ বেশি ছিল পাহাড়ি এলাকাগুলিতে। টানা বর্ষণের ফলে মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় শনিবার রাত থেকে ধস নামতে শুরু করে। বন্ধ হয়ে যায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। কালিম্পং-এর পুলিশ সুপার (এসপি) শ্রীহরি পান্ডের মতে, জেলা জুড়ে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও ভূমিধসের কারণে জাতীয় সড়ক ১০ বন্ধ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে এর উপর দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়াও, সিকিম যাওয়ার বিকল্প জাতীয় সড়ক ৭১৭এ ঋষি সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ধস নামায় সেখানেও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, কয়েকটি নিচু এলাকায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে জল উপচে পড়েছে। তবে, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার বা অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র খোলার কোনো প্রয়োজন নেই। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর ৬ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে তিস্তা, জলঢাকা-সহ প্রায় সমস্ত নদী। যার ফলে দার্জিলিঙের দুধিয়া ব্রিজের পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুলছে একাংশ। ধসের ফলে শিলিগুড়ির সঙ্গে ঋষিখোলা, পেডংয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, একই অবস্থা মিরিকেরও।
শিলিগুড়ি-দার্জিলিং রোহিনী রোডে ধস নামায় সেটিও আপাতত বন্ধ রয়েছে। ধসে উত্তর সিকিমের লাচুংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে ফলে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নাগরাকাটার অবস্থা খুবই ভয়াবহ। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানেও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে, ভুটানের জলে ভাসতে পারে ডুয়ার্স, জলের চাপে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই মর্মে রাজ্য সরকারকে সতর্ক করেছে ভুটান প্রশাসন। বড় বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি