| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ট্রাম্পের শতভাগ শুল্কের হুমকি, চীনের পাল্টা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে উত্তপ্ত বিশ্ববাজার

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১৪, ২০২৫ ইং | ০৭:৩৩:১৮:পূর্বাহ্ন  |  ১৪৩০১১৩ বার পঠিত
ট্রাম্পের শতভাগ শুল্কের হুমকি, চীনের পাল্টা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে উত্তপ্ত বিশ্ববাজার
ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : ২০২৫ সালের শুরুতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পুরনো বাণিজ্য যুদ্ধ নতুন করে জ্বলে ওঠে, আর গত সপ্তাহে সেটি এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিরল মৃত্তিকা, প্রযুক্তি রপ্তানি ও জাহাজ চলাচলের ব্যয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখন সরাসরি সংঘাত চলছে। সামান্য করছাড়ের প্রেক্ষিতে যে সম্পর্ক কিছুটা নরম হতে পারত, তা এখন উল্টো আগুনে পরিণত হয়েছে। অথচ মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিতব্য এপেক সম্মেলনে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল—কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে সেই বৈঠক আদৌ হবে কি না, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ।


এই সংঘাতের সূত্রপাত এপ্রিল মাসে, যখন যুক্তরাষ্ট্র চীনের সেমিকন্ডাক্টর খাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং চীনা জাহাজের ওপর অতিরিক্ত বন্দর ফি বসায়। এর জবাবে ৯ অক্টোবর চীন ঘোষণা দেয়, ১ ডিসেম্বর থেকে বিরল মৃত্তিকা খনিজ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। এর ফলে কোনো কোম্পানি চীনা উপকরণ বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি পণ্য বিদেশে পাঠাতে চাইলে বেইজিংয়ের অনুমতি নিতে হবে। স্মার্টফোন, ইলেকট্রিক গাড়ি ও সামরিক সরঞ্জামে ব্যবহৃত এই বিরল মৃত্তিকার ৯০ শতাংশেরও বেশি প্রক্রিয়াকরণ চীনের হাতে, যা তাদেরকে এক অনন্য কৌশলগত অবস্থানে রেখেছে। পাশাপাশি তারা মার্কিন জাহাজের ওপর ‘বিশেষ বন্দর ফি’ বসিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকেও সরাসরি চাপের মুখে ফেলেছে।


ট্রাম্প এর জবাবে ঘোষণা করেছেন, আগামী নভেম্বর থেকে চীনের সব আমদানির ওপর আরও ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত ট্যাক্স বসানো হবে—যা বিদ্যমান ৩০ শতাংশ শুল্কের ওপর যুক্ত হবে। এতে কিছু পণ্যের ওপর মোট কর ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তিনি চীনকে সফটওয়্যার রপ্তানি বন্ধের কথাও বলেছেন এবং শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। এপ্রিলে ট্রাম্পের ১৪৫ শতাংশ শুল্কের জবাবে চীন ১২৫ শতাংশ কর আরোপ করেছিল; মে মাসে সাময়িক এক চুক্তিতে উভয় পক্ষ শুল্ক কমিয়ে আনলেও, বিরল মৃত্তিকা ও প্রযুক্তি ইস্যুতে দ্বন্দ্ব না মেটায় তা দ্রুত ভেঙে পড়ে।


বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিকে “ভণ্ডামি” বলে অভিযুক্ত করেছে এবং বলেছে, তাদের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যদিকে, ট্রাম্পের দাবি—চীনের এই পদক্ষেপ “শত্রুভাবাপন্ন” এবং “বিশ্ববাজারকে জোর করে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।” তিনি বলেন, চীন অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে আমেরিকান রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। ফলাফল, মার্কিন শেয়ার বাজারে বড় ধস, সোনার দাম বৃদ্ধি, এবং ক্রিপ্টো বাজারে আতঙ্ক।


বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সংঘাত মার্কিন অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী প্রমাণ হতে পারে। বিনিয়োগ বিশ্লেষক স্টিভ আইসম্যানের মতে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ মন্দা আসা সময়ের ব্যাপার মাত্র। অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম পোজেনের মন্তব্য আরও সরাসরি—চীন যদি রপ্তানি কমিয়ে দেয়, তাহলে মার্কিন ভোক্তারা নিজেরাই সবচেয়ে বেশি ভুগবে। কারণ চীনা পণ্যের ওপর নির্ভরতা এত গভীর যে দাম বাড়লেই তার প্রভাব সরাসরি মার্কিন পরিবারের বাজেটে পড়বে। ট্রাম্পের নতুন করনীতির ফলে প্রতিটি পরিবারকে বছরে প্রায় ১৩০০ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হতে পারে।


তবে চীনও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। এআই চিপ, স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেমসহ উচ্চ প্রযুক্তি খাতে তারা এখনও আমেরিকার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। অর্থাৎ, এই বাণিজ্য যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, দুই দেশই তত গভীর ক্ষতির মুখে পড়বে।


বর্তমান পরিস্থিতি এক অনিশ্চিত অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছে। ট্রাম্প-শি বৈঠক বাতিল হওয়ার ঝুঁকি ও নতুন ট্যাক্সের আশঙ্কায় বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। কেউ কেউ বলছেন, হয়তো এটি একটি দরকষাকষির কৌশল মাত্র—কিন্তু যদি না হয়, তবে এই সংঘাত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে এমন এক সংকটে ঠেলে দিতে পারে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসতে বছর নয়, দশকও লেগে যেতে পারে।




রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪