আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : পর্যটন পরামর্শদাতা সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচক বা হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স অনুসারে ভারতীয় পাসপোর্টের র্যাঙ্কিংয়ে পতন ঘটেছে। ২০২৪-এর তুলনায় ৮ ধাপ পিছিয়ে বর্তমানে ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ার সাথে যৌথভাবে ৮৫ তম স্থানে রয়েছে, যার মাধ্যমে ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা ৫৭টি দেশে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার পান। এই বছরের শুরুতে যখন ভারত ৫৯টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পেত, তখন এটি ছিল ৭৭ তম স্থানে—যা থেকে বর্তমান পতনটি বেশ উল্লেখযোগ্য।
এই সূচকটি তৈরির ২০ বছরে প্রথমবারের মতো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট বিশ্বের ১০টি শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকা থেকে ছিটকে গেছে। ২০১৪ সালে একসময় ১ নম্বরে থাকা আমেরিকান পাসপোর্ট এবার মালয়েশিয়ার সাথে যৌথভাবে ১২তম স্থানে নেমে এসেছে, যার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ২২৭টি গন্তব্যের মধ্যে কেবল ১৮০ টিতে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যায়। একইভাবে, যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টও এই সূচকে তার সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে, যা জুলাই মাসের ৬ষ্ঠ স্থান থেকে বর্তমানে ৮ম স্থানে এসেছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টও একসময় শীর্ষস্থান দখল করেছিল।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স জানিয়েছে, মার্কিন পাসপোর্টের এই নিম্নমুখী প্রবণতার কারণ হলো একাধিক প্রবেশাধিকারের পরিবর্তন। ব্রাজিলের সাথে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার হারানো এবং চীনের দ্রুত সম্প্রসারিত ভিসা-মুক্ত তালিকা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাদ পড়া এই পতনের শুরু। এরপর পাপুয়া নিউ গিনি এবং মিয়ানমারের মতো দেশগুলোর নিয়ম পরিবর্তন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্কোরকে আরও কমিয়েছে, যখন অন্য অনেক পাসপোর্টের স্কোর বেড়েছে। সম্প্রতি সোমালিয়ার নতুন ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু এবং ভিয়েতনামের ভিসা-মুক্ত তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ ধাক্কা দিয়েছে, যা এটিকে শীর্ষ ১০ থেকে বাইরে ঠেলে দিয়েছে।
বর্তমানে তিনটি এশীয় দেশ—সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান—এই র্যাঙ্কিংয়ে আধিপত্য বিস্তার করছে। সিঙ্গাপুর ১৯৩টি গন্তব্যে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার নিয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে, এরপর দক্ষিণ কোরিয়া (১৯০) এবং জাপান (১৮৯)।
বিগত দশকে এই সূচকে চীন অন্যতম বৃহৎ আরোহণকারী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০১৫ সালের ৯৪ তম স্থান থেকে দেশটি ২০২৫ সালে ৬৪ তম স্থানে উন্নীত হয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে এর ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকারের স্কোর ৩৭টি গন্তব্য বেড়েছে। শুধু গত বছরেই চীন অতিরিক্ত ৩০টি দেশকে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “রাশিয়াকে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার মতো সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলি বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান উন্মুক্ততা ও বিশ্বজুড়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির চলমান কৌশলকে তুলে ধরে। গাল্ফ দেশ, দক্ষিণ আমেরিকা এবং বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সাথে নতুন চুক্তির পাশাপাশি চীনের এই পদক্ষেপগুলি বিশ্বব্যাপী গতিশীলতা (global mobility) ক্ষেত্রে তার ভূমিকাকে মজবুত করছে, যা ভ্রমণ স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আধিপত্যকে আরও শক্তিশালী করছে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসসি